ইউসুফ আল কারজাভীর চরিত্র হননে তৈরি হচ্ছে হলিউড মুভি; অর্থ দিচ্ছে আরব আমিরাতপ

প্রখ্যাত মিশরীয় ইসলামিক স্কলার শায়েখ ড. ইউসুফ আল কারজাভীকে সন্ত্রাসবাদে উসকানিদাতারূপে উপস্থাপন করতে একটি হলিউড মুভিতে মোটা অংকের তহবিল দিয়েছে উপসাগরীয় আরব দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ড. ইউসুফ আল কারজাভীকে সন্ত্রাসবাদে উসকানিদাতা হিসেবে চিত্রিত করতে হলিউড ফিল্মে আবুধাবির অর্থায়ন, আরব বসন্ত সমর্থনকারী ওলামাদের কলুষিত করার প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

মিশরীয় পার্লামেন্টের ধর্মীয় কমিটির সাবেক উপসচিব ড. মুহাম্মাদ সগির আরব আমিরাতের এধরণের জঘন্য কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, এটি আরব বসন্ত সমর্থনকারী আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে আবুধাবি কর্তৃক দুর্নাম রটানোর জঘন্য অপচেষ্টা।

মিশর ও সম্প্রতি তিউনিসিয়ার অভ্যুত্থানের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেকোনো ধরণের অভ্যুত্থান কিংবা বিপ্লব বিরোধী কর্মকাণ্ডের পিছনের মূলহোতাও এখন তারা।

পুরো বিশ্বের ৮০ হাজার আলেম-ওলামাদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আল ইত্তেহাদুল আ’লমী লি-ওলামা-ইল মুসলিমীনকে আবুধাবি নিজেদের সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরীয় পার্লামেন্টের ধর্মীয় কমিটির এই সাবেক উপসচিব।

তিনি বলেন, ইসলামের দাওয়াতি ও দাতব্য প্লাটফর্ম বা সংস্থাগুলোকে আবুধাবির সরকার এখন নিয়মিতই বিকৃতরূপে উপস্থাপন করে যাচ্ছে। আজ থেকে ঠিক ১ মাস পূর্বে শুধুমাত্র বড় বড় সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর অধিকাংশ প্রধান কার্যালয় দুবাইয়ে অবস্থিত হওয়ায় তারা আল ইত্তেহাদুল আ’লমী লি-ওলামা-ইল মুসলিমীন বা মুসলিম স্কলারদের আন্তর্জাতিক ইউনিয়নের ফেসবুক পেইজ বন্ধ করে দেয়, যার ফলোয়ারের সংখ্যা ৩০ লক্ষ! পরবর্তীতে যদিও মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম স্কলার বা আলেম-ওলামাদের অভিযোগের মুখে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আবারো ওই পেইজটি ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এর মাধ্যমে সংগঠনটির ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে আবুধাবির সরকার একটি খারাপ ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

ড. মুহাম্মাদ সগীর আরো বলেন, বিভিন্ন দেশের প্রতি আবুধাবির শাসকগোষ্ঠীর হিংসাপরায়ণতা কিংবা প্রতিশোধস্পৃহা এখন আর অস্পষ্ট নয়। লিবিয়া, ইয়েমেন সহ সম্প্রতি শুরু হওয়া তিউনিসিয়ার সংকটের পিছনে তাদের কলকাঠি নাড়ার বিষয়টি এখন সবার কাছে স্পষ্ট।

ড. ইউসুফ আল কারজাভীর মতো ইসলামী ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে অপবাদ রটাতে কেনো এমন করা হচ্ছে তার উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, একনায়কতন্ত্র বিরোধী বিপ্লব আরব বসন্ত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের ক্ষেত্রে আরব জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে মিশর এবং আমিরাতী মিডিয়াগুলো শাইখ কারজাভীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি আগেও মধ্যপন্থার প্রতীক ছিলেন এবং এখনো তাই (মধ্যপন্থার প্রতীক হিসেবে) রয়েছেন।

হলিউড মুভিটিতে কাতারকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। কাতারের মানবাধিকার এবং ধর্মীয় ভাবমূর্তিকে বিশেষভাবে আঘাত করা হয়েছে তাতে।

প্রসঙ্গত গত রবিবার (১ আগস্ট) আল জাজিরার আরবি ভার্সন আল জাজিরা মুবাশিরে ‘মা খুফিয়া আ’জমু’ (কতই না বিশাল গোপনীয়তা) নামে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্ত ও ফাঁস করা নথিগুলো এটাই প্রমাণ করে যে, মূলত কাতারকে ক্ষেপিয়ে তোলার লক্ষ্যেই হলিউড মুভি দা মিসফিটস নির্মাণে বিশাল অংকের অর্থায়ন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। টাকার বিনিময়ে ইচ্ছামতো বাস্তবতা বিবর্জিত বিকৃতি ঘটিয়েছে তারা।

মা খুফিয়া আ’জমু বা হোয়াট ইজ হিডেন ইজ গ্রেটার প্রোগ্রামটিতে একটি আমিরাতী কোম্পানির নথি ফাঁস করা হয়। যেখানে দেখা যায় যে, তারা ওই হলিউড মুভিটিতে এমন একটি দৃশ্য যুক্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছে, যেখানে একজন অভিনেতা ড. ইউসুফ কারজাভীর চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার সহিংসতায় উসকানিদাতা হওয়ার বার্তা দিবে দর্শকদের!

এটা লক্ষণীয় বিষয় যে, মা খুফিয়া আ’জমু প্রোগ্রামের দলটি হলিউড মুভি দা মিসফিটসের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি স্তরের কর্মী, অভিনেতা ও কলাকুশলীদের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার নিতে সক্ষম হয়েছিলো। এমনকি আবুধাবি ও তার বাইরে শুটিং করা সকল সদস্যদেরও!

সূত্র: আল জাজিরা মুবাশির