পাক-আফগান সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে তাশখন্দে ইমরান-গনি বৈঠক

আফগানিস্তান জুড়ে তালেবান হামলা জোরদার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে যখন পাকিস্তানের সঙ্গে চাপা উত্তেজনা চলছে তখন উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে দু’দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তাশখন্দে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অবকাশে শুক্রবার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। বৈঠকে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র প্রধান জেনারেল ফয়েজ হামিদ উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে তালেবান উত্থানকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হলেও ঠিক কী বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।

বৈঠকে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র প্রধান জেনারেল ফয়েজ হামিদ উপস্থিত ছিলেন
সাক্ষাতের আগে তাশখন্দ সম্মেলনে গনি ও খান পরস্পরকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন। প্রেসিডেন্ট গনি বলেন, প্রায় ১০ হাজার বিদেশি জঙ্গি বর্তমানে আফগানিস্তানে অবস্থান করছে এবং তারা সরকারের বিরুদ্ধে তালেবানের হয়ে যুদ্ধ করছে।

তিনি সরাসরি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করে বলেন, “গোয়েন্দা তথ্য বলছে, গত এক মাসে পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার জঙ্গি আফগানিস্তানে এসেছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও বলছেন, বৈশ্বিক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি।”

প্রেসিডেন্ট গনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও পাকিস্তানি জেনারেলরা তাকে বহুবার বলেছেন, তারা তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণকে পাকিস্তানের স্বার্থবিরোধী বলে মনে করেন।

তারা তালেবানকে রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে রাজি করানোর ‘সর্বোচ্চ চেষ্টা’ করবেন বলেও কাবুলকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, কিন্তু বাস্তবে পাকিস্তানে যেসব নেটওয়ার্ক তালেবানকে সমর্থন করে তারা এখন আফগানিস্তানে তালেবান হামলার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসলীলায় আনন্দ উদযাপন করছে।

তাশখন্দ সম্মেলনে পাকিস্তানকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি
আশরাফ গনির এ বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, তালেবানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য পাকিস্তান ওই গোষ্ঠীর ওপর বহুবার ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

 

তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে যাতে বন্ধু দেশ হিসেবে ভাবা হয় সেজন্যই তিনি গত নভেম্বরে কাবুল সফরে গিয়েছিলেন। ইমরান খান বলেন, আমরা পাকিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো ছাড়াও আরো বহুভাবে এই প্রচেষ্টা চালিয়েছি যাতে তালেবান রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের জন্য আলোচনার টেবিলে বসে। পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আফগানিস্তানে যা কিছু ঘটে তার সবকিছুর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা অত্যন্ত অন্যায় ও অবিচারমূলক।”

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাশখন্দে বলেছেন, তার দেশে শিগগিরই আফগানিস্তান বিষয়ক দু’দিনব্যাপী একটি শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং সে সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট গনিসহ শীর্ষস্থানীয় আফগান কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনটি ৫ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত করার উদ্যোগ নেয়া হলেও আফগান নেতারা ঈদুল আজহার পরে এটির আয়োজন করার অনুরোধ জানিয়েছেন। পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই এ সম্মেলনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে