লকডাউনে হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন ‘সৃষ্টির সেবা’ সংস্থা

গেলো বছর ১৭ মার্চে ছড়িয়ে পড়া মহামারী কোভিড-১৯ এর ফলে দফায় দফায় লকডাউনে জনজীবনে নেমে আসে ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর অসহায়ত্ব। লক্ষ লক্ষ মানুষ পড়ে যান খাদ্য সংকটে। সেই থেকে এ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে এসব মানুষকে খাদ্য চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আসছে সৃষ্টির সেবা সংস্থা।
সংস্থার সহসভাপতি নওমুসলিম মুহাম্মাদ রাজ জানান, গত বছরের লকডাউনে আমরা অসহায় ও ভাসমান মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছি রান্না করা খাবার। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পয়েন্টে দিনে সর্বনিম্ন তিনশো থেকে ১২০০ মানুষকে রান্না করা খাবার খাইয়েছি আমরা।

খাবারের মেনুতে কখনো থাকতো খাশীর তেহারি, কখনো মোরগ পোলাও, ডিম পোলাও আবার কখনো থাকতো ডিম খিচুড়ি। এছাড়া রমজানে ইফতারি, ঈদে ঈদ সামগ্রী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, ইফতারিও ঈদ সামগ্রী দেয়া হয়েছে আলাদাভাবে। এবছরও যখন প্রথমে সাধারণ লকডাউন ঘোষণা হয় তখন থেকে সংস্থার তৎপরতা আবার বেড়ে যায় এবং যথারীতি ক্ষুধার্তদের পাশে খাদ্য পৌঁছানো শুরু হয়।

সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম বলেন, শুরুতে সামান্য প্রতিকূলতা থাকলে এখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাইয়েরা আমাদের যথেষ্ট সহযোগীতা করেন। অনেক সময় পুলিশের ভাইয়েরা তাদের গাড়িতে করে আমাদের খাবার পৌঁছে দেন। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
গত এক তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া কঠোর লকডাউনে সংস্থার তৎপরতা কয়েকগুণ বেড়েছে। জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ইবরাহীম খলীল সাহেব বলেন, এর আগের লকডাউনে তো তাও লোকজন কোনো না কোনোভাবে বাইরে এসে খাবার চাইতে পেরেছে। কিন্তু সঙ্গত কারণেই এবারের লকডাউনে ঘর থেকে বের হওয়া বা এক জায়গায় জমায়েত হওয়াও সম্ভব নয়, তাই আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে ভাসমান ও দরিদ্র মানুষের কাছে গিয়ে খাবার দিয়ে আসছি।

উল্লেখ্য, দেশের যেকোনো দূর্যোগে  এগিয়ে আসতে চেষ্টা করে সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীরা। তাদের অন্যান্য প্রজেক্টের মধ্যে রয়েছে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য ও ঔষুধ বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, মসজিদ মাদরাসা নির্মান, গভীর নলকূপ স্থাপন, হিজড়াদের শিক্ষাদান, অসহায় রোগীদের চিকিৎসা, গৃহ নির্মাণ, আইনী সহায়তা প্রদান, শীতে কম্বল বিতরণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম।
২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি মুহাম্মাদ ইউসুফ ফরহাদ