বসুরহাটে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে বিক্ষোভ, পুলিশের উপস্থিতিতে ডাক্তারের পলায়ন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে মা ও শিশু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ডাক্তারের আগমনে ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভ করেন।

শুক্রবার (১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় ডাক্তার মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়াজীকে কসাই এবং উগ্র আচরণের ডাক্তার আখ্যা দিয়ে মারধর করার চেষ্টা চালিয়ে বিক্ষোভ করে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এবং ডাক্তার নিজেকে বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাহিসেবে পরিচয় দেন।

এতে পরিস্থিতি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ভয় পেয়ে ডাক্তার তার চেম্বারের দরজা বন্ধ করে রাখলে উত্তপ্ত জনতার হাত থেকে রক্ষা পায়।
এ সময় উৎসুক জনতার ভিড়ে হাসপাতালটির সাধারণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশের এসআই সরোজ রতন আচার্য্য ও এএসআই ইয়ামিন মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ডাক্তার সুযোগ পেয়ে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী রোগীর অভিভাবক ইস্রাহিল জাহান হ্যাপি জানান, ২৪জুন রাত ১১টায় আমার ছোট বোন তানহার টনসিল অপারেশ করে নাক, কান ও গলার ডাক্তার মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়াজি। এসময় আমার বোনের গলার একটি রোগ কেঁটে ফেললে ৪-৫ঘণ্টা নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত যেতে থাকে। অবস্থার এমন অবনতি দেখে ভয়ে সবাই রোগীকে রেখে পালিয়ে যায়। পরে দ্রুত আমরা আমার বোনকে ফেনী মেডিল্যাব হাসপাতালে চিকিৎসা করাই। এ অপারেশন বাবদ বিভিন্নভাবে ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

অপর এক ভুক্তভোগী রোগীর অভিভাবক আবদুল্লাহ আল রাসেল জানান, আমার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার নিস্পাকে গত ১৭জুন ডাক্তার মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়াজী টনসিল অপারেশন করে রোগীর গলায় অপারেশনের গজ রেখে দিয়ে তার কাজ শেষ করে। অপারেশনের ২/৩দিন পরও আমার মেয়ে খাবার খেতে না পারায় ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করি। ডাক্তার বলেন না খেলে পাচায় বাড়ী দিয়ে খাওয়ান। তার কোন সমস্যা নেই। পরে ২৬জুন বিকেলে হাসপাতালটিতে আসলে নার্সরা টর্চলাইট দিয়ে দেখে গলায় ব্যান্ডেজের গজ আটকে আছে। তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়ে দেড়ফুটের দু’টি গজ গলা থেকে বের করলে রোগীর স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে এবং এমন ভুলের জন্য তারা আমার ক্ষমা চান।

এ ব্যাপারে মা ও শিশু হাসপাতালের ম্যানেজার নাজিম উদ্দিন সুমন জানান, আসলে বিষয়টি ডাক্তার বলতে পারবে। ডাক্তার অপারেশন করেছে। রোগীরা ক্ষিপ্ত হয়েছে। আমি বেশী কিছু বলতে পারবো না। আপনার সাথে পরে সাক্ষাতে কথা বলবো।
এ ব্যাপারে ডাক্তার মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়াজী এর কাছে মোবাইলে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। এক সময় ছাত্রলীগ করেছি। রাজনীতি বড় কথা নয়। এ অপারেশনগুলোতে আমার কোন গাফলতি নেই। রোগীকে যখন ফেনী নিয়ে আসে রাত জেগে ফজর পর্যন্ত রোগীর চিকিৎসায় আমি সময় দিয়েছি। আমার একটা সম্মান আছে। আমি স্বায়ত্তশাসিত ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এর সহযোগী অধ্যাপক এবং নাক, কান, গলারোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন। আমার অনেক ছাত্র আছে। এ রকম অপারেশনে রক্তক্ষরণ হতেই পারে। এমন আচরণে ওই এলাকায় আমার চেম্বার করার ইচ্ছাও নেই।

উল্লেখ্য, বসুরহাট মা ও শিশু হাসপাতালের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে গত ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠে।

৩০ ডিসেম্বর ২০২০ বুধবার হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও ডাক্তার শুন্যতার অভিযোগে বসুরহাট মা ও শিশু হাসপাতালকে সিলগালা করেন বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা।