এক সন্তানের জননীকে বিয়ে করলেন রেলমন্ত্রী

বিয়ে করেছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। দিনাজপুরের বিরামপুরের মেয়ে শাম্মী আকতার মনিকে গত শনিবার (৫ জুন) বিয়ে করেন তিনি। তাদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাম্মী আকতার মনির বড় ভাই মো. মিলন হোসেন।

বিরামপুর নতুন বাজারে তাদের বাসা। ওই এলাকার মৃত আব্দুর রহিমের মেয়ে মনি। মনিরা দুই ভাই এক বোন। দুই ভাই বর্তমানে বিরামপুরের বাসায় থাকেন। বড় ভাই মিলন হোসেন ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী। অপরজন স্থানীয় ব্যবসায়ী। তাদের আগের বাড়ি পাবনায় ছিল।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে (​পিডিবি) লাইনম্যান পদে চাকরির সুবাদে কয়েক বছর আগে আব্দুর রহিম বিরামপুরে আসেন। তারপর বিরামপুরেই থেকে যান। এরপর বিরামপুরের নতুন বাজার এলাকায় জায়গা কিনে বাড়ি করে স্থায়ী হন।

মিলন হোসেন বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বোনের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘরোয়াভাবে শনিবার প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে আমার বোনের সঙ্গে রেলমন্ত্রীর বিয়ে হয়েছে। বিয়েতে বরপক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিরামপুরের বিচারপতি ইজারুল হক ও তার স্ত্রী। কনে পক্ষে আমি ও আমার ভাই উপস্থিত ছিলাম।

তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ছোট পরিসরে যতটুকু করা দরকার; সেভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছে। আমার বোন উত্তরায় থাকে। ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডমিনে চাকরি করতো। এরইমধ্যে ল’ পাস করে হাইকোর্টে এক সিনিয়রের সঙ্গে প্র্যাকটিস করছে।

মিলন হোসেন বলেন, আমার বোন বর্তমানে উত্তরার বাসায় আছে। ডিসেম্বর মাসে স্বামী রেলমন্ত্রী সুজনের বাড়িতে যাবে। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী যখন বিয়ের অনুমতি দেন তখন মন্ত্রীকে ফোনে বলেছেন, দেখেন আপনার বিয়েতে উপস্থিত থাকতাম। কিন্তু করোনার কারণে থাকতে পারলাম না। আপনি বিয়ে করে ফেলেন। আমি পরবর্তী সময়ে বউকে বরণ করবো। এজন্য আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠান করে স্ত্রীকে বাসায় নেবেন রেলমন্ত্রী। তবে এখন বোনের উত্তরার বাসায় আছেন মন্ত্রী। আজও স্ত্রীর বাসাতেই অবস্থান করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমার বোনের এর আগে কুষ্টিয়ায় বিয়ে হয়েছিল। পারিবারিক সমস্যার কারণে ২০১১ সালে ডিভোর্স হয়ে যায়। ওই ঘরে একটি মেয়ে রয়েছে। এরপর থেকে মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় থাকে আমার বোন। ঈদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিরামপুরের বাড়িতে বেড়াতে আসতো। মাঝে মধ্যে আমরাও যাই।

বিয়ের বিষয়ে জানতে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনকে একাধিকবার ফোন দিলেও ধরেননি। তবে রেলমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) রাশেদ প্রধান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিয়ের বিষয়টি আমরা শুনেছি, যা বলার মন্ত্রী নিজেই বলবেন। আমাদের কাছে এখনও ধোঁয়াশা। পরিষ্কার করে কিছুই বলতে পারছি না।

পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, রেলমন্ত্রী বিয়ে করেছেন এটি সঠিক। বিষয়টি আমি তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে শুনেছি। তবে তার পরিবারের অনেকেই এখনও বিষয়টি জানেন না। এমনকি জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীলরাও জানেন না। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রী নিজেই জানাবেন।

প্রসঙ্গত, নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী নিলুফার জাহান ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ-মুহূর্তে মারা যান। তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। তিন সন্তানেরই বিয়ে হয়েছে। ৬৫ বছর বয়সী নূরুল ইসলাম ১৯৫৬ সালের ৫ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে জন্মগ্রহণ করেন।

পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসন থেকে নবম, দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর রেলমন্ত্রী হন সুজন।