কানাডায় মুসলিম পরিবারকে হত্যার নিন্দায় ট্রুডো-ইমরান খান

ওন্টারিওতে একটি মুসলিম পরিবারের ওপর ট্রাক চালিয়ে দেয়ার ঘটনায় ওই পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে ৪ জনই নিহত হয়েছে।
নিহত কানাডায় মুসলিম এরদ মধ্যে দুই নারী, এক কিশোরী এবং একজন মধ্যবয়স্ক। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

নিহতরা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এই হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন। এক টুইট বার্তায় ইমরান খান জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনায় খুবই আহত হয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্রমাগত ইসলামভীতি বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছেন, তার দেশে ইসলামভীতির কোনো জায়গা নেই। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি মর্মাহত হয়েছেন। তিনি হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। দুর্ঘটনায় ৯ বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়েছে। সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন ট্রুডো।

ওন্টারিওতে নিহত দুই নারীর বয়স যথাক্রমে ৭৪ ও ৪৪ বছর। ওই দুর্ঘটনায় ১৫ বছরের এক কিশোরী এবং ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন। ২০ বছর বয়সী নাথানিয়াল ভেল্টম্যান নামের এক যুবক ওই হামলা চালিয়েছেন।

পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে দেখছেন অনেকে। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে নাথানিয়ালকে আটক করেছে কানাডিয়ান পুলিশ। তবে হামলাকারী কোন বিদ্বেষমূলক অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত গ্রুপের সদস্য কিনা তা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এক সংবাদ সম্মেলনে ওন্টারিওর পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার ধরন দেখে এটাকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ বলা যেতে পারে। পরিবারটি মুসলিম বলেই নাথানিয়াল তাদের ওপর ট্রাক চালিয়ে দিয়েছেন। এটাকে ইসলামোফোবিয়া বা ইসলামভীতি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আরও পর্যবেক্ষণ দরকার।

লন্ডন সিটির মেয়র এড হোল্ডার এই ঘটনাকে গণহত্যা, মুসলিমদের বিরুদ্ধে অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন। অপরদিকে টরন্টোর মেয়র মুসলিম পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এক হামলায় ওই পরিবারের তিন প্রজন্ম নিহত হয়েছে। তাদের ইসলামিক বিশ্বাসের ওপর ক্ষোভ থেকে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মুসলিম কমিউনিটির পাশে আছি।’

তিনি আরও বলেন, পুরো শহর মুসলিমদের পাশে আছে। তিনি বলেন, ‘এই সহিংসতার পেছনে দায়ী হিংসা, ঘৃণা এবং ইসলামভীতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’