হাইয়াতুল উলইয়া এর কো-চেয়ারম্যান: কে হচ্ছে

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসার সরকার স্বীকৃত সর্বোচ্চ অথরিটি ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের প্রায় সব মাদরাসার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এ সংস্থা। দেশের আঞ্চলিক পাঁচবোর্ড ও বেফাক বোর্ডের তাকমিল জামাতকে মাস্টার্স (এম এ) সমমান দেওয়ার জন্য গঠিত হয়েছিলো এ অথরিটি। বোর্ড গঠনের পর গত ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদরাসাকে মাস্টার্সের (এম. এ) স্বীকৃতি দেন।

প্রতিষ্ঠাকালীন এ অথরিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ.। তিনি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন। আর প্রতিষ্ঠাকালীন কো-চেয়ারম্যান ছিলেন মাওলানা আশরাফ আলী রহ.। তিনি ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। এরপর যাত্রাবাড়ী মাদরাসার মুহতামিম মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানকে বেফাকের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি ও হাইয়াতুল উলইয়ার চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়। একই সময়ে বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান করা হয় আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ. কে। তিনিও ইন্তেকাল করেছেন গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর। তার ইন্তেকালের পর থেকেই হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান পদটি শূন্য। প্রায় ৬ মাস ২৩ দিন শূন্য রয়েছে এ পদ।

মাঝে মুফতি ওয়াক্কাস রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে কো-চেয়ারম্যান হিসেবে খাস কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বেফাকে সেটাকে অনুমোদন হয়নি। কার্যকর হয়নি হাইয়াতুল উলইয়াতেও।

সাম্প্রতিক সময়ে বেফাকের এ শূন্যপদ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হাইয়াতুল উলইয়ার কো- চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন; তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা

জানা গেছে, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে কো-চেয়ারম্যান হিসেবে এগিয়ে আছেন তিন বরেণ্য আলেম। তারা হলেন, সিলেটের মাওলানা আব্দুল বারি ধর্মপুরী। তিনি বর্তমানে বেফাকের প্রথম সহ-সভাপতি। ফেনীর মাওলানা নুরুল ইসলাম আদিব ও চট্টগ্রামের মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

সূত্র জানিয়েছে, সদ্যবিদায়ী বেফাকের সাবেক মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসকে কো-চেয়ারম্যান করার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। তিনি ঢাকার একটি বৃহত্তর মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস। এর আগেও বেফাকের মহাসচিব হিসেবে কো-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

সেই হিসাবে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। কো-চেয়ারম্যানের দৌড়ে হেফাজত মহাসচিব ও খিলগাঁও মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা নুরুল ইসলাম এর পাল্লাও ভারী। একাধিক বলয় থেকে তার নামও শক্তভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। আছে মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরীর নামও। কিছু অস্থিরতা ছাড়া এগিয়ে আছেন তিনিও।

এদিকে বেফাকের খাস কমিটির সদস্যরা বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ বিষয়ে সম্যক অবগত রয়েছেন। বেফাকের নীতি-নির্ধারণী কমিটিতেও তাদের ভূমিকা থাকে। তাদের মাঝে এগিয়ে রয়েছেন খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদরাসার মাওলানা নুরুল ইসলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া দারুল আরকাম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সাজিদুর রহমান। মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ ও সিলেট গহরপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন গহরপুরী।

তাছাড়া আগেরবারের মতো বর্তমান মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হককেও কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে কে হবেন বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হাইয়াতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান, তা বেফাকের আমেলা মিটিং থেকেই জানা যাবে।

এদিকে শুধু হাইয়াতুল উলিয়ার কো-চেয়ারম্যান একাধিক করার দাবিও উঠছে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে। তারা বলছেন, বেফাক থেকে একজনকে কো-চেয়ারম্যান করা হোক। আর হাইয়াতুল উলিয়ার সাথে সম্পৃক্ত বাকি পাঁচবোর্ড থেকেও জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে একজনকে করা হোক কো-চেয়ারম্যান।

তবে এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে। জানা গেছে, কমিটির সকল সদস্য সম্মতি জ্ঞাপন করলে সংশোধন করা যেতে পারে হাইয়াতুল উলইয়ার গঠনতন্ত্র