ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রধান কোভিড পরীক্ষাগারটিও বন্ধ

ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় গাজায় ভেঙে পড়েছে একের পর এক ভবন। গাজায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোভিড টেস্ট সেন্টার। প্রধান পরীক্ষাগারটি প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় সব কোভিড পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (১৮ মে) রাতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো বোমাবর্ষণ এবং হত্যার পাশাপাশি কোভিড সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়াটা নতুন করে বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

সাংবাদিক সামি আবু সালেম বলেন, গাজায় ওষুধের ঘাটটিও দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গাজার জনসাধারণের জন্য সহযোগিতা বিশেষ করে চিকিৎসা চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সেখানকার পৌরসভা জানিয়েছে, বিদ্যুৎ এবং পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় সমুদ্রের পানি সরবরাহ লাইনটি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২১৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৩টি শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত দেড় হাজার মানুষ। এছাড়া, ২ শিশুসহ ১২ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০০ জন।
‘আমাদের খাবার, পোশাক, লেপকাঁথা ও দুধ প্রয়োজন। কিছুই নেই আমাদের।’ দুই সপ্তাহ আগে মা হওয়া গাজার সুহের আল-আরবিদ নামের এক নারীর এই আর্তিই যেন বলে দিচ্ছে গাজার বর্তমান পরিস্থিতি।

ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় গাজায় ধ্বংসস্তূপের শহরে পরিণত হয়েছে। আল-আরবিদের মতো অনেকেই খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অভাবে ভুগছে। সেখানে মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ বলেছে, ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে গাজায় অভ্যন্তরীণভাবে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদেরই একজন সুহের আল-আরবিদ।

গাজার একটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছে নবজাতকসহ তাঁর ছয় সন্তান।
মঙ্গলবার মুঠোফোনে আল-জাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেন আল-আরবিদ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অভাবের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খালি মেঝেতে ঘুমানোর কারণে আমার পিঠে ব্যথা হয়েছে।

আমার ছেলের জন্য অন্যদের কাছে ডায়াপার চেয়েছি। আমি আমার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছি। কিন্তু এরপরও সে ক্ষুধার্ত থাকে। ফলে সে ক্ষুধায় কান্না করে।’

সুহের আল-আরবিদের মতো গাজার উত্তর ও পূর্বে বসবাস করা শত শত পরিবার গত বৃহস্পতিবার বাড়িঘর ছেড়ে গাজার আল-জাজিদা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। রাতে খালি পায়ে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে তারা সেখানে পৌঁছায়। ইউনাইটেড ন্যাশনস রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টাইন রিফিউজি
(ইউএনআরডব্লিউএ) ওই স্কুল পরিচালনা করে। ইসরায়েলের বিমান হামলা ও কামানোর গোলায় অনেকের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র : আল জাজিরা