পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহতের ঘটনায় ইশা ছাত্র আন্দোলনের শোক

আজ ০৩ মে’২১ সোমবার সকালে পদ্মায়
মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাট সংলগ্ন কাঁঠালবাড়ি ঘাট এলাকায় নোঙর করা জাহাজের সাথে যাত্রীবোঝাই স্পিডবোট সংঘর্ষে ২৬ নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল করীম আকরাম ও সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মাদ আল-আমিন।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, অনিয়ম যেখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে, আইন শৃঙ্খলায় নিয়োজিত বাহিনী যেখানে দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজদের পৃষ্ঠপোষকতা করে সেখানে নিরীহ জনগণ ধারাবাহিকভাবে এমন বলির পাঁঠা হতেই থাকবে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই-তিন গুন বেশী ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে যাচ্ছেতাই ব্যবহার ও ধারণ ক্ষমতার প্রায় দ্বিগুন যাত্রী পরিবহন হারহামেশায় চলছে। আকারভেদে ১২-২০ জনের একটা স্পিডবোর্ট এদিন ৩১ জন যাত্রী নিয়েছিল।

লুকোচুরিকরে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপারের এসব সাজানো নাটক নিয়মিতই মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। এসব সিন্ডিকেট নতুন নয়। তাদের শেকড় অন্য উচ্চতায়। এই সিন্ডিকেটের নির্লজ্জ লোভের সর্বশেষ বলি হলো আজকের দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ জন।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এসব ঘটনা নতুন নয়, বিগত পঞ্চাশ বছরের নৌ-দুর্ঘটনায় হতাহতের ফিরিস্তি দেখলে চোখ কপালে আশ্চর্য হতে হয়। গত তিন মাসে মোট ৯৫ টি ছোট-বড় নৌ দুর্ঘটনায় ১৪৯ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন। বাংলাদেশে গত ১৪ বছরে ৫৩৫ টি বড় নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর এতে ছয় হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। গত ৫০ বছরে দেশে নৌ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২০ হাজার ৫০৮ জন।

এর মধ্যে গত ১২ বছরের মধ্যে ২০০৭ সালে সবচেয়ে বেশি ২১৭৭ জনের মৃত্যু হয়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো এসব দুর্ঘটনা তদন্তে ৮৬৩ টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্ত কমিটির কোনোটিরই ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এটি জনগণের সাথে একটি চরমতম প্রহসন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই অব্যবস্থাপনার জন্য আমরা নৌ মন্ত্রী ও বিআইডব্লিউটিএ’র মহাব্যবস্থাপক এর পদত্যাগ দাবি করছি। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করে দ্রুত তদন্তপূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

 

বার্তা প্রেরক
নূরুল বশর আজিজী
কেন্দ্রীয় প্রচার ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক
ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন