আমরা ভুলের মাশুল দিচ্ছি : হেফাজত নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল আউয়াল

নারায়ণগঞ্জ: ‘আমাদের বিরুদ্ধে যারা মাঠে কাজ করেন আর যারা আমাদের মধ্যে অতি উৎসাহী, তাদের কারণেই দেশে আগুন, গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে।

কিন্তু আফসোস হলো, সে ষড়যন্ত্রের গভীরতা বুঝতে আমরা ভুল করছি। না বোঝার ফলে সে ভুলের মাশুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে।’

সাম্প্রতিক সময়ে কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মকান্ডের আত্মসমালোচনা করে শুক্রবার জুমার নামাজের বয়ানে কথাগুলো বলছিলেন ডিআইটি মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আউয়াল।

তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি।

 

মাওলানা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘আল্লাহও বলেছেন ইসলামে অনেক দল হবে।

কিন্তু কিয়ামত পর্যন্ত একটি দল হকের ওপর থাকবে। সে দলটিই আমি মনে করি কওমি অঙ্গন।

যেহেতু আমরা সহি ও হকের ওপর আছি তাই বাকি আট-দশটি দল বুঝেশুনে, চিন্তা করে এ হকের ওপর থাকা কওমি অঙ্গনকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

আমাদের কলুষিত করে সমাজের কাছে, মানুষের কাছে অনাস্থার দলে পরিণত করাই তাদের টার্গেট।

আজকে আমরা দেখছি, অমুক স্থানে গাড়ি ভাঙচুর, অমুক স্থানে আগুন। এগুলো কারা করছে?

 

এ ঘটনার মধ্যে দুটি দল আছে। একটি হলো আমাদের বিরুদ্ধে যারা মাঠে কাজ করে, অন্যটি আমাদের মধ্যে অতি উৎসাহী কিছু মানুষ, যারা আন্দোলন বোঝে না।

কিন্তু আফসোস হলো, সে ষড়যন্ত্রের গভীরতা বুঝতে আমরা ভুল করছি। না বোঝার ফলে সে ভুলের মাশুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো দাবি যদি সরকার থেকে আদায় করতে হয় তাহলে সে দাবি আদায়ের বিভিন্ন পথ আমাদের সামনে ছিল। সেভাবে আমরা সরকারকে বাধ্য করতে পারতাম।

আর না মানলেও সরকার আমাদের বোঝাত অমুক কারণে দাবি তারা মানতে পারেনি।

গত রমজানে যখন করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ ছিল তখনো কিন্তু সরকার আমাদের দাবির ফলে হেফজখানাগুলো চালু করে দিয়েছিল।

ঈদের পরও আমাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকার ফলে কওমি মাদরাসাগুলো চালু করে দিয়েছিল।

কওমি অঙ্গন থেকে সম্প্রতি ভাঙচুর করার ফলে দেশের মানুষের সম্পদ নষ্ট হয়েছে।

আমাদের প্রতি ক্ষোভ থেকে এখন আবার কওমি মাদরাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করোনা এখানে অসিলা মাত্র।’

কোরআনের তিনটি আয়াত উপস্থাপন করে মাওলানা আবদুল আউয়াল সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘রাগ কমিয়ে মাদরাসাগুলো খুলে দিন।

আর যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনুন।

 

যদি সবাইকে এক পাল্লায় নিয়ে এসে শাস্তি দেন তাহলে এটা অবশ্যই জুলুম হবে।

 

’ মাওলানা আউয়াল আরও বলেন, ‘অনেকে আমার সঙ্গে একমত না-ও হতে পারেন। কিন্তু আমি আপনাদের কথায় চলব না।

 

আমাকে আল্লাহ বিবেক দিয়েছেন, বুদ্ধি দিয়েছেন।

কোরআন-হাদিস গবেষণা করার যতটুকু যোগ্যতা দিয়েছেন আমি সেটুকু গবেষণা করেই সামনে বাড়ব।’