রমজানের পূর্বেই রমজানের প্রস্তুতি নিতে যে উপদেশ দিয়েছিলেন আল্লামা শফি রহ:

২০১৮ সালের ১১ মে রমজানের কিছুদিন পূর্বে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা শাহ্ আহমদ শফি রহ. দেশবাসির উদ্দেশ্যে রমজানের প্রস্তুতি মূলক বেশকিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হওয়ায় আল্লামা শাহ্ আহমদ শফি রহ.-এর সেই উপদেশগুলো আবারো আওয়ার ইসলামের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:

চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে উত্তরার বাবুস সালাম মাদরাসার পার্শ্বে বাবুস সালাম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর শুভ উদ্ভোধনকালে চট্টগ্রাম হাটহাজারি মাদরাসার সাবেক মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি রহ. বলেছিলেন, পবিত্র গ্রন্থ নাযিলের মাস আসছে, মুমিনের ইবাদতের মাস আসছে, এ মাসের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
সেসময় তিনি দেশবাসীর কাছে নিজের সুস্থতার দু’আ কামনা করেছিলেন এবং তিনিও দেশ ও মানবতার কল্যানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করেন।
উপদেশে তিনি বলেছিলেন, আল-কুরআন আল্লাহর নাযিলকৃত মহাসত্য ও পবিত্র গ্রন্থ। কুরআনের সামনে বাতিল কোনদিন টিকতে পারে না। এই জন্য সারা দেশে কুরআনী শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, ইয়াহুদীরা ইসলাম ও মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য নানামুখি ষড়যন্ত্র করছে।

এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দীনে ইসলামের হেফাজত এবং ইসলামি আক্বিদা-বিশ্বাসকে সংরক্ষণের জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেছিলেন, উলামায়ে কেরাম আল্লাহর জন্য নিবেদিত। আমাদের লক্ষ্য একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। আমরা সেই লক্ষ্যেই দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছি, ভবিষ্যতেও করে যাব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো বলেছিলেন, পবিত্র মাহে রমজান আসন্ন। এই মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশেষ নিয়ামত। এই নিয়ামতকে সামনে রেখে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে হবে। মাহে রমজানকে পালনের জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। রমজানে নেক আমলে মশগুল থাকতে হবে।বদ আমল থেকে বিরত থাকতে হবে।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া সেই উপদেশে তিনি বলেছিলেন, পবিত্র মাহে রহজানের পবিত্রতা রক্ষা করুন। কুরআন নাযিলের মাসে বেশী বেশী কুরআন তিলাওয়াত করুন, কুরআন বুঝুন, কুরআনময় সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় যাকাত-ফিতরা সুষ্ঠুভাবে আদায় করুন।

অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া, দূর্নীতিসহ যাবতীয় অনাচার ও ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকুন। দিনের বেলা হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখুন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখুন। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করুন।