৩১৭ বছরের পুরনো মসজিদ উদ্বোধন করলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার প্রাণকেন্দ্র কামাল পাড়ায় অবস্থিত ৩১৭ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক খানসামা মসজিদ এর সংস্কার কাজ শেষে আজ ৯ই এপ্রিল জুমার খুৎবা প্রদানের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

খৎবা পূর্ববর্তী বয়ানে বর্ষীয়ান এই আলেমেদ্বীন বলেন,দুনিয়ায় আল্লাহর মনোনীত কিছু ঘর আছে, যেখানে বান্দা মহান আল্লাহর কুদরতি পায়ে সিজদাবনত হয়; আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। সেখানে প্রবেশ করলে মুমিনের মন আল্লাহর ভালোবাসার সৌরভে প্রশান্ত হয়ে যায়। সেখানে মুমিনরা মহান আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হয়। সেটি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্থান। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদ আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা হলো বাজার।

মসজিদ হলো মুসলিম সমাজের মূলকেন্দ্র। এ কারণে রাসুল (সা.) হিজরতের প্রথম দিনই মসজিদ নির্মাণের কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। মদিনায় হিজরতের সময় যাত্রাবিরতিকালে তিনি কুবা নামক স্থানে ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। পরে মদিনায় পৌঁছে তিনি মসজিদ-ই-নববী স্থাপন করেন। এবং সেখান থেকেই ইসলামের জ্যোতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন।মসজিদ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণকারীদের মহান আল্লাহ ভীষণ পছন্দ করেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারাই তো আল্লাহর মসজিদের আবাদ করবে, যারা ঈমান আনে আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি, সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তারা হবে সৎপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।

হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে,যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, মহান আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করে দেবেন।

তা ছাড়া মসজিদ নির্মাণ এমন একটি পুণ্যময় কাজ, যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। যত দিন সেই মসজিদে আল্লাহর ইবাদত হবে, তত দিন নির্মাণকারী এর সওয়াব পেতে থাকে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সাত ধরনের আমলের প্রতিদান মৃত্যুর পর কবরেও জারি থাকে। ১. যে ব্যক্তি কাউকে দ্বিনি ইলম শিক্ষা দেবে। ২. যে নদী প্রবাহিত করতে সহযোগিতা করবে। ৩. অথবা কূপ খনন করবে। ৪. অথবা গাছ রোপণ করবে। ৫. অথবা মসজিদ নির্মাণ করবে। ৬. অথবা কোরআন বিতরণ করবে। ৭. অথবা সুসন্তান রেখে যাবে যে তার মৃত্যুর পর তার জন্য দোয়া করবে।

আমি মনে করি,মসজিদ নির্মাণ অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আল্লাহর প্রিয় হওয়ার অন্যতম মাধ্যম।তবে আমাদের উচিত হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় মসজিদ নির্মাণ করা।মসজিদ নিয়ে অহংকার অহমিকায় লিপ্ত হওয়া যাবে না।

মসজিদের মুতাওয়াল্লি জনাব নূর মোহাম্মদ এর সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবুল হাশেম,মাওলানা ইন’আমুল হাসান ফারুকী,মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা সিকান্দার,মদিনা আবাসিক এর চেয়ারম্যান জনাব হাসেম প্রমূখ।