হেফাজত নেতাদের নামে মামলা : যা বলছেন মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম

ভারতের বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৬ মার্চ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তাওহীদি জনতার সাথে সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলামসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছে রাজধানীর ওয়ারীর বাসিন্দা খন্দকার আরিফ-উজ-জামান নামের এক ব্যক্তি। ওই ব্যক্তি হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন দাবি করে এ মামলা দায়ের করেন।

সোমবার (৫ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওয়ারীর একজন বাসিন্দা এ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৮।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজতে মহাসচিব ও দেশের অন্যতম সিনিয়র আলেম আল্লামা নুরুল ইসলাম বলেন, ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে জনতার সাথে সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় হেফাজতের নেতাদের নামে মামলা ষড়যন্ত্রমূলক এবং হাস্যকর।

প্রথমত সেদিন বাইতুল মোকাররমে হেফাজতের কোনও কর্মসূচি ছিলো না। সেদিন সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যাদের সংঘর্ষ হয়েছে, তাদের সবাই ছিলো সাধারণ মুসল্লি। কর্মসূচি না থাকায় সেদিন কোনো হেফাজত নেতা বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভে যাননি। তাই এই ঘটনায় হেফাজত নেতাদের মামলা যে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, তাতে কোনও সন্ধেহ নেই।

আল্লামা নুরুল ইসলাম আরো বলেন, মামলায় আমাকেসহ হেফাজতের ১৭ নেতাকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে আমি নাকি বাঁশের লাঠি দিয়ে হাড় ভাঙ্গা জখম করেছি! আপনারা জানেন আমি অসুস্থ মানুষ। আমার পক্ষে একা চলাফেরা করাও সম্ভব হয় না। সেখানে আমার বিষয়ে বলা হয়েছে, আমিই নাকি হাড় ভাঙ্গা জখম করেছি!
তিনি বলেন, মামলায় চট্টগ্রাম ও বি. বাড়িয়ার নেতাদেরও আসামি করা হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম ও বি. বাড়িয়ায় অবস্থান করেও কিভাবে হামলা চালালো তা আমাদের বোধগম্য নয়।
হেফাজতের মহাসচিব বলেন, এটাকে কোনও মামলা-ই বলা যায় না। এধরণের মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা কী করে থানা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করলো!

তিনি বলেন, ২৬ মার্চ দেশের কোথাও হেফাজতের কোনো কর্মসূচি ছিলো না। ২৬ মার্চে বায়তুল মোকাররমে হামলার প্রতিবাদে হাটহাজারীতে ছাত্ররা বিক্ষোভ করে, এবং সে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্রসহ ৪ জন নিহত হয়। এরপর বি. বাড়িয়াতেও তৌহিদী জনতার বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অনেকে প্রাণ হারায়। এসব ঘটনার পর ২৬ তারিখ রাতে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করি। যা বাস্তবায়ন হয় ২৭ ও ২৮ মার্চ।

হেফাজত মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, ঘটনা কারা ঘটিয়েছে এবং ঘটনার দায় কাদের, তা বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া একজন মামলা করে দিলো, আর প্রশাসন তা গ্রহণ করে ফেললো- এটা সমীচীন নয়। এসব মামলা-হামলার ভয় হেফাজত পায় না। হেফাজত দেশের মানুষের ঈমানী সংগঠন।

ঈমানী আন্দোলনে হেফাজত অবশ্যই মাঠে থাকবে, ইন-শা আল্লাহ। তবে সাথে সাথে এটাও আমরা বলে দিতে চাই, হেফাজত কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নয়। হেফাজতের নেতারা হামলা চালানো তো দূরের কথা, হামলার নির্দেশ দাতাও নয়। বরং আমরা সবসময় চেষ্টা করি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে।

তিনি বলেন, ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে চট্টগ্রাম, বি. বাড়িয়াতে ২০ জনের অধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গুলি চালিয়ে অসংখ্য আলেম-উলামা ও সাধারণ তৌহীদি জনতাকে আহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হেফাজত নেতাদের নামে মামলা গ্রহণ করা প্রশাসনের মানবতা বিরোধী কাজ বলেই আমরা মনে করি।

আল্লামা নুরুল ইসলাম বলেন, যারা নিরহ মাদরাসার ছাত্র ও সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা যে পর্জায়েই থাকুক না কেনো, অবশ্যই দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

বায়তুল মোকাররমের ঘটনাতেও যারা নামাজ পড়তে আসা সাধারণ মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়ে দেশের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করেছে, সেসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে দেশে বারবার এধরনের অশান্তি সৃষ্টি হবে, যার দায় সরকার কোনভাবেই এড়াতে পারবে না।