হেফাজত নেতাদেরো নামে মামলা : বাদির দাবি হেফাজত নেতারা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল

গত ২৬ মার্চ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে তাওহীদি জনতার সাথে সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম এবং যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সেক্রেটারি মাওলানা মামুনুল হকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছে রাজধানীর ওয়ারীর বাসিন্দা খন্দকার আরিফ-উজ-জামান নামের এক ব্যক্তি।

 

 

হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগপত্রে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন দাবি করে সোমবার (৫ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

তিনি দাবি করেন যে, গত ২৬ মার্চ দুপুরে তিনি বায়তুল মোকাররম মসজিদে সাড়ে ১২টার দিকে জুম’আর নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন।

হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ওই ব্যক্তির দায়ের করা মামলার এজাহারের বিবরণীতে তিনি বলেন, ‘বিবাদী হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সরাসরি প্রত্যক্ষ হুকুমে আসামি (২) মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে অতর্কিত আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার মাথা লক্ষ্য করিয়া বাড়ি মারিলে প্রাণ রক্ষার্থে আমি সরিয়া গেলে তৎক্ষণাৎ সে আমার ডান পায়ে হাটুর নিচে বড় রড দিয়ে বাড়ি মারিয়া গুরুতর হাড় ভাঙ্গা জখম করে।

উক্ত আঘাতে আমি মাটিতে পড়িয়া গেলে আসামি (৩) মাওলানা লোকমান হাকিম, (৪) মাওলানা নাসির উদ্দিন মনির তাদের হাতে বাশের লাঠি দ্বারা আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করিয়া গুরুতর জখম করে।
এ পর্যায়ে আসামি (৫) মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া তার হাতে থাকা ক্রিজ দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে সাক্ষী শহিদুল ইসলাম, পিতা- মৃত মহিউদ্দিন খান, সাং-১৬/৯ পূর্ব জুরাইন, কদমতলী, ঢাকা, মাথার পেছনে গুরুতর কাটা জখম করে। এ পর্যায়ে আসামি (৬) মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী তার হাতে থাকা বাশের লাঠি দ্বারা সাক্ষী রুবেল মাতুব্বর (রাজ), পিতা- মৃত রুপচান, সাং-মাতুব্বরকান্দি, থানা সখিপুর, জেলা শরিয়তপুর, বর্তমান ৯/৫ নিউ সেক্রেটারিয়েট রোড, আনন্দবাজার, শাহবাগ, এর তার বাম হাতে বাহুতে গুরুতর হাড় ভাঙ্গা জখম করে আসামি (৭) মাজিদুর রহমান প্রাণে মারিয়া ফেলার উদ্দেশ্যে সাক্ষী প্রফেসর ড. আরশেদ আলী আশিক, পিতা: আজিম উদ্দিন, মাতা: জহুরা খাতু্ন, সাং-২০ সুলতান টিপু রোড, ওয়ারী ঢাকা, কে মাথা লক্ষ্য করিয়া কাঠের চেলা দিয়ে বাড়ি মারিলে সে তার ডান হাত দিয়া ফিরাইলে ডান হাতের কব্জির উপর গুরুতর হাড় ভাঙ্গা জখম হয়। পরবর্তী পর্যায়ে উক্ত বেআইনি উশৃঙ্খল আইন অমান্যকারী জঙ্গি আসামিগণসহ অজ্ঞাতনামা ২০০০/৩০০০ আসামিগণ মসজিদের ভেতর ও ছাদ থেকে নিরিহ মুসুল্লিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপর নানা জঙ্গি শ্লোগান দিয়ে বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এছাড়াও তারা সাবল দিয়ে মসজিদের টাইলস ভেঙ্গে তুলতে থাকে। তাদের উপরোক্ত আঘাতে স্বাক্ষী রাজিব শেখ, পিতা: আলমগীর শেখ, সাং-১৩৫ পশ্চিম জুরাইন, শেমপুর, ঢাকা, এর মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং সাক্ষী বাতেন তালুকদার, পিতা: মৃত হাফিজুর রহমান তালুকদার, সাং-১৩৪০/২০ পূর্ব জুরাইন, কদমতলী, ঢাকা, ডান পায়ের হাটুর নিচে ধারালো টাইলসের আঘাতে গুরুতর জখম হয়।

এমতাবস্থায় আমরা প্রাণে বাঁচতে মসজিদের উত্তর গেইট থেকে দৌড়ে বের হওয়ার সময় আসামি (৮) মাওলানা হাবিবুর রহমান (লালবাগ ঢাকা), আসামি (৯) মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীসহ অজ্ঞাতনামা আসামিগণ বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে উপরোক্ত আসামিগণসহ অজ্ঞাত আসামিগণ সরকার বিরোধী শ্লোগান দিয়ে ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়স্থ আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে মিছিলসহ অগ্রসর হওয়ার এক পর্যায়ে আসামি (১০) মাওলানা জসিম উদ্দিন আসামি (১১) মাওলানা মাসুদুল করিম, রিবলবার দ্বারা জনতার উদ্দেশ্যে ৫/৬ রাউন্ড গুলি ছুরে, কিন্তু পরিস্থিতি ও জনতার শক্ত প্রতিরোধের মুখে তারা পিছনে হটে, এবং দুইটি মটর সাইকেল যার নাম্বার ঢাকা মেট্রো-ল ৩৯-৭৯৮৩ এবং ঢাকা মেট্রো-ল ৩৭-৩৪১৬ (পালসার ১৫০ সিসি), এছাড়াও তারা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে।
আসামি (১২) মুফতি মুনির হোসেন কাসেমী, ১৩) মাওলানা যাকারিয়া নোমান ফয়েজী, (১৪) মাওলানা ফয়সাল আহমেদ, (১৫) মাওলানা মুশতাকুন্নবী, (১৬) মাওলানা হাফেজ যুবায়ের (ছাত্র ও যুব সম্পাদক), (১৭) মাওলানা হাফেজ মুহাম্মাদ তৈয়বসহ (দপ্তর সম্পাদক) অন্নান্য আসামিগণ বায়তুল মোকাররমের আশে পাশের দোকানে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে। উপরোক্ত আসামিগণসহ অজ্ঞাতনামা আসামিগণ বায়তুল মোকাররমসহ মহানগরের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
২৬/৩/২০২১ বিকাল ৪.৩০ ঘটিকার সময় ১ নং আসামি মাওলানা মামুনুল হক বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভেতরে উক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা জামাত-শিবির-বিএনপি জঙ্গি মৌলবাদী নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে মিলিত হয়ে পূর্ব পরিকল্পভাবে সারা দেশব্যাপী গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার পতনের লক্ষ্যে হামলার পরিকল্পনা করে। এর ফলশ্রুতিতে ১ নং আসামির প্রতক্ষ্য নির্দেশনায়, ষড়যন্ত্র ও পরিচালনায় ২ নং থেকে ১৭ নং আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ২০০০/৩০০০ হেফাজত, জামায়াত-শিবির-বিএনপির জঙ্গি কর্মীরা বি. বাড়িয়া, চট্টগ্রাম হাটহাজারীসহ সারাদেশে রাস্তাঘাট, হাটহাজারী থানা, বি. বাড়িয়া রেল স্টেশন, ভূমি অফিস, সরকারি পাঠাগার, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ও যাত্রাবাড়ীসহ দেশের নানা স্থানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগ, ভাংচুর, লুটতরাজ চালায়। এছাড়াও উক্ত আসামিগণ বি. বাড়িয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাংচুর করে এবং কিশোরগঞ্জে জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করে।
উক্ত আসামিগণ বায়তুল মোকাররম মসজিদের টাইলস ভেঙ্গে বিভিন্ন হাদিস কুরআনসহ ধর্মীয় পুস্তকে অগ্নিসংযোগ করে ইসলামের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে। আসামিগণের এহেন কার্যকলাপে ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপকভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ভয় ভীতির সঞ্চার হয়। ১ নং আসামির নেতৃত্বে ২-১৭ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিগণ বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করে সংবিধান লংঘন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, মসজিদ ভাংচুর করে দেশকে অস্থিতিশীল, অকার্যকর মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার মাধ্যমে অবৈধ পথে সরকার উৎখাতের হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
সাক্ষীগণ ঘটনা প্রমান করিবে এবং তদন্তকালীন সময় বিভিন্ন স্বাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। আমিসহ অন্যান্য জখমি সাক্ষীগণের হাসপাতালের চিকিৎসাসহ উপরোক্ত ঘটনার সাথে জড়িত আসামিগণের নাম ঠিকানা, ভিডিও ফুটেজসহ নানা সাক্ষী প্রমাণ সংগ্রহের জন্য মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়। অতঃএব উপরোক্ত বিষয়টি যথাযথ বিবেচনা করিয়া আসামিগণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যববস্থা গ্রহণে আপনার মর্জি হয়’

সূএ: ইনসাফ