এবার ইউপি চেয়ারম্যানের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ইয়াবা সেবনে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধার কয়েক মাস আগে মদ পান করার ভিডিও ভাইরাল হয়।

এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধা ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে রয়েছেন।

 

এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। আর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধা তার সহযোগীদের নিয়ে একটি নৌকায় মাদকের আসর বসিয়েছেন। একজন তাকে গ্যাসের দিয়াশলাই দিয়ে আগুন দিচ্ছেন, আর চেয়ারম্যান ইয়াবা সেবন করে চলেছেন।

 

এদিকে, এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর চেয়ারম্যান গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। তার মুঠোফোন সংযোগ সচল থাকলেও তিনি কারো কল রিসিভ করছেন না।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল ছিদ্দিক বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।

 

এই ঘটনায় সাংবাদিকরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) এর সাংসদ মোহাম্মদ এবাদুল করিম মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে একদিকে চেয়ারম্যান, অন্যদিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। সে সমাজের ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।
উভয় দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া উচিত। এ রকম কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তাকে দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিন। তার পরিবারের কাছে আমার অনুরোধ, তাকে জোরপূর্বক হলেও চিকিৎসা দিন।

দলীয় ইউনিয়ন কমিটির সভাপতির মাদক সেবনের বিষয়ে মতামত জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুর রহমান বাদলের মুঠোফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম. এ হালিম বলেন, ঘটনাটি আমিও জানতে পেরেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সাথে আলোচনা শেষে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এর আগে, চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ইউপি চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধার অপসারণের দাবি জানায় ওই ইউপির ১১জন সদস্য।

ইউপির ২নং ওয়ার্ড সদস্য বাছির মিয়া বলেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম আসলাম মৃধার নিজে মাদকাসক্ত ও মাদক বেচাকেনা করেন। এছাড়া তিনি টিআর কাবিখার টাকা আত্মসাৎ করেন। জন্ম-মৃত্যু সনদ প্রদানেও তিনি অতিরিক্ত টাকা নেন।

৯নং ওয়ার্ড মেম্বার ও তিন নারী মেম্বার চেয়ারম্যানকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাস করলে তিনি লিলি বেগম নামের এক নারী মেম্বারকে জুতাপেটা করেন। পরিষদের টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা জেলা প্রশাসকের বরাবর অভিযোগ জানিয়েছি।

এছাড়াও আমরা সকল ইউপি সদস্যরা সভা করে অর্থ আত্মসাৎ ও অশালীন কাজের বিরুদ্ধে অপসারণ এবং অনাস্থা প্রদানের রেজ্যুলেউশন করেছি।