হুজুররা রিকশায় যেতে পারতো না এখন বড় হুজুরদের গাড়ি আছে

ইসলামী জার্নাল : পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, কিছু লোক আমাদের দেশের মানুষকে কানেক্টিভ পানিশমেন্ট দিতে চায়। জনগণকে শিক্ষা দিতে চায়।

মোদিবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সহিংসতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভূমি অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এখানে দেড়-দুই শ’ বছরের পুরনো রেকর্ডস রয়েছে। ফলে ভূমি অফিসের আওতায় বসবাসকারীরা আগামী অন্তত ৫০ বছর কষ্ট ভোগ করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রত্যেকটা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস-বাসভবনে হামলা করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। এ সমস্ত কাজে ব্যবহার করা হয় মাদরাসার কোমলমতি ছেলেদের। আমরা চাইব সবার মধ্যে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।’

আইজিপি বলেন, ‘রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু ধ্বংস কেন? দেশ আমাদের সবার। দেশের সম্পদ ধ্বংস করে রাজনীতা করবেন কীভাবে? আশা করব, প্রত্যেকের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। হুজুররা রিকশায় যেতে পারতেন না। এখন বড় হুজুরদের গাড়ি আছে। অনেকে হেলিকপ্টার হুজুর হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। এর কারণ হলো আমাদের অর্থনীতি ভালো হয়েছে।

এখন কেন একশ্রেণীর লোকজন এসব ধ্বংস করছেন?’

ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘ধ্বংস করলে একপর্যায়ে ১৮ কোটি মানুষ এটাকে ভিন্নভাবে নিতে পারে। আমরা অনুরোধ করব এগুলো বন্ধ করেন। একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যেখানে আইনের শাসন বজায় রয়েছে, আইনের শাসনের সাথে এ বিষয়গুলো যায় না।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো: আনোয়ার হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান ও পুলিশ সুপার মো: আনিসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুর পৌনে ১২টা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

 

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে মাদরাসাছাত্রদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় বিক্ষুব্ধরা