মাওলানা রেজাউল করীম আবরারের মুখে মুফতী ওয়াক্কাস (র:) এর কিছু কথা

 

মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, আমি নভেম্বরের দিকে আমি নোয়াখালি যাচ্ছিলাম৷ মালিবাগ আসার পর দেখলাম, মুফতি ওয়াক্কাস রাহি. রিকশায় করে পল্টন যাচ্ছেন৷

 

আমি দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে পরিচয় দিলাম৷ কয়েক বছর আগে একবার Wali Ullah Arman ভাই আমাকে হুজুরের কাছে নতুববাগ মাদরাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন৷

 

সে দিন মোটামোটি লম্বা সময় হুজুরের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলাম৷

 

আব্বার পরিচয় দেওয়ার পর হুজুর খুশি হলেন এবং গাড়িতে উঠলেন৷ আমি হুজুরকে পল্টন নামিয়ে দিয়ে চলে গেলাম৷

 

আল্লামা নুর হুসাইন কাসেমি রাহি. ইন্তেকালের দিন সন্ধ্যার পর লাশ দেখে নতুনবাজার মোড়ে এসে দেখি, মুফতি ওয়াক্কাস রাহি. রামপুরা যাওয়ার জন্য সি, এন জি তালাশ করছেন৷

 

আমাদের মুরব্বিদের মাঝে মুফতি সাহেব হুজুর তিনবারের সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীও ছিলেন৷ তারপরও তার জীবনে কখনো সম্পদের ছোঁয়া লাগে নি৷ রিকশা এবং সি, এন, জিতে চলতেন৷

 

হেফাজতের ৫ ই মের হৃদয়বিদারক ট্রাজেডির ধকল সবচেয়ে বেশি ধকল সহ্য করেছিলেন মুফতি সাহেব৷ বছরখানেক জেল খেটেছেন৷

 

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পঞ্চাশের অধিক মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরেছেন৷

 

প্রত্যেক মাসে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে যশোর থেকে ঢাকায় এসে আদালতে হাজিরা দিতেন৷

মুফতি সাহেবের মতো সচেতন এবং বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন৷

 

৫ ই মে সন্ধ্যায় তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন, আপনারা আওয়ামীলীগকে চিনতে ভুল করছেন৷ যেভাবে পারেন চলে যান!

 

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি ভয়ানক পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেছিলেন৷ তাজরেবা বলে যে শাস্ত্র রয়েছে, সে শাস্ত্রে মুফতি সাহেব অনেক এগিয়ে ছিলেন৷

 

আজ একটি ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটল৷ আকাবিরদের জীবন্ত এক নমুনা পরপারের যাত্রী হলেন৷

 

আল্লাহ মুফতি সাহেবকে ক্ষমা করে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন৷ তার পরিবারকে ধৈর্যধারণের তাওফিক দান করুন৷