মাহফিলের নামে অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রতারণা করতেন মাওলানা শরিফুল

 

ইসলামী জার্নাল : মাওলানা এ বি এম শরিফুল ইসলাম (৩০) নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তিনি নিজেকে পরিচয় দিতেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামিচিন্তাবিদ হিসেবে। ভারত, দুবাই ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে ইসলামি চিন্তাবিদ হিসেবে আমন্ত্রণ পান বলেও দাবি করতেন। এছাড়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম হলেও ভিজিটিং কার্ডে নিজেকে উপস্থাপন করেন নারায়ণগঞ্জ জামে মসজিদের খতিব হিসেবে।

কিশোরগঞ্জ মিঠামইন এলাকার হোসেনপুর গ্রামে একটি ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে যাওয়ার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হলেও সেখানে যাননি মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী। আর প্রধান বক্তা মাহফিলে না যাওয়ায় পণ্ড হয়ে যায় আয়োজন।

মাহফিলের নামে অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রতারণা করতেন মাওলানা শরিফুল

এ ঘটনায় শনিবার (১৩ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করেন হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা আল রাসেল। এরপর এই ঘটনায় জড়িত থাকায় নারায়ণগঞ্জ থেকে মাওলানা এ বি এম শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তাকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান বলে জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কিশোর শীল।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ একটি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বেশ কয়েকটি মাহফিলে মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর সঙ্গে এই প্রতারক (শরিফুল) পিএস হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই পরিপ্রেক্ষিতেই মাহফিল আয়োজকরা তার (শরিফুল) সঙ্গে যোগাযোগ করে।’

হারুন-অর-রশীদ আরও বলেন, ‘পাশাপাশি আমরা আরও তথ্য পেয়েছি, মাহফিলের নির্ধারিত দিনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হওয়ার জন্য মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীকে যে পরিমাণ ফি দেয়ার কথা, একই দিনে অন্য কোনো মাহফিলের জন্য এর চেয়ে বেশি ফির অফার পেলে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে পূর্বনির্ধারিত মাহফিলে না গিয়ে যারা বেশি টাকা দিচ্ছে সেই মাহফিলে উপস্থিত হন। এক্ষেত্রে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন এই প্রতারককে।’

 

মামলার বাদী আল রাসেল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের গ্রামের ওয়াজ মাহফিলের প্রধান বক্তা হিসেবে মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীকে দাওয়াত করার জন্য আমি ও আমার গ্রামের আরেক বাসিন্দা কাজী মোহাম্মদ নইম উদ্দিন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার আকিজ স্টেশনের সামনে মাওলানা নাজমুল (এ বি এম শরিফুল ইসলাম) নামের একজনের সঙ্গে দেখা করি। তিনি নিজেকে মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর পিএস হিসাবে পরিচয় দেন।’

তিনি বলেন, ‘পরে যুক্তিবাদী হুজুরকে আমাদের মাহফিলে আনতে তার সঙ্গে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করি। কাছে নগদ টাকা না থাকায় বিকাশ নম্বর থেকে নাজমুলকে আমরা তার বিকাশ নম্বরে নয় হাজার টাকা বুকিং মানি বাবদ দেই। পরবর্তীতে নাজমুলের সঙ্গে কাজী মোহাম্মদ নইম উদ্দিনের যোগাযোগ হয় এবং তার আশ্বাস পেয়ে মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী হুজুরকে প্রধান বক্তা হিসেবে উল্লেখ করে গত ৫ মার্চ আমাদের গ্রামে ঈদগাহ মাঠে মাহফিলের আয়োজন করি।’
রাসেল আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে মাহফিলের দিন ৫ মার্চ তারিখ সকালে নাজমুলকে বিকাশে আবারও দ্বিতীয় দফায় ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। মাহফিলের দিন তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সে আমাদের বলে- হুজুরকে নিয়ে বের হচ্ছি, বের হয়েছি, রাস্তায় আছি, আর ৩০ মিনিট সময় লাগবে ইত্যাদি কথা বলে মিথ্যা সান্ত্বনা দিতে থাকেন। কিন্তু রাত ১২টা পর্যন্ত যুক্তিবাদী হুজুরের অপেক্ষা করে মাহফিলে আসা লোকজন আমাদের অপমান-অপদস্থ করে সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে চলে যায়। তখন তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আমরা বিভিন্নভাবে জানতে পারি মাওলানা নাজমুলের আসল নাম মাওলানা এ বি এম শরিফুল ইসলাম। সে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা।’

শনিবার (১৩ মার্চ) রাতে শরিফুলের সঙ্গে হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর যোগসূত্র প্রসঙ্গে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, ‘শরিফুল গ্রেফতার হওয়ার পর মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী নিজে মোবাইল ফোনে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশ ও অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যাতে অভিযুক্ত এ বি এম শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করা হয়। এজন্য মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান বিনা টাকায় মাহফিল করে দিতে চেয়েছেন। এমনকি আজ ডিসি তেজগাঁও অফিসে মাওলানা আজাদী নামে একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন, তেজগাঁও বিভাগের ডিসি স্যারকে অনুরোধ করতে, যাতে আসামিকে ক্ষমা করা হয়।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।