যে নামাজ পড়লে মিলবে ১২ বছর ইবাদতের সাওয়াব

 

আল্লাহ বলেন, (‘হে রাসুল!) আপনার প্রতি নাজিলকৃত কিতাব পাঠ করুন এবং নামাজ প্রতিষ্ঠা করুন। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর। (সুরা আনকাবুত : আয়াত ৪৫)
নামাজ শুধু অশ্লীল ও খারাপখারাপ কাজ থেকেই মুক্তি দেয় না বরং নামাজের রয়েছে নানা উপকারিত। এ সব উপকারিতা যেমন রয়েছে দুনিয়ায় আবার পরকালের উপকারে অগণিত সাওয়াব লাভের হাতছানিও আছে এ নামাজে। হাদিসের বর্ণনা থেকেই তা প্রমাণিত।

১২ বছর ইবাদতের সাওয়াব
ঈমানের পরে নামাজ হলো মুমিন মুসলমানের জন্য প্রধান ইবাদত। ফরজ নামাজ যথাযথ পালন করার পর এমন কিছু নফল নামাজ রয়েছে যা পালনে রয়েছে ১২ বছর ইবাদত বন্দেগি করার সাওয়াব। তাহলো-

 

মাগরিবের নামাজ আদায়ের পর বিশ রাকআত নফল নামাজ পড়া। সম্ভব না হলে ন্যূনতম ৬ রাকাআত নফল নামাজ আদায় করা। এ নামাজে ১২ বছর ইবাদতের সাওয়াব মেলবে। এ নফল নামাজ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-
-কোনো ব্যক্তি মাগরিবের পর ছয় রাকাআত নামাজ আদায় করে এবং ইশার নামাজ আদায়ের আগে কোনোরূপ মন্দ কথা না বললে; তবে তাকে এর বিনিমেয়ে ১২ বছরের ইবাদাতের সাওয়াব দেয়া হবে।

 

– অপর বর্ণনায় এসেছে, (এতে) ৫০ বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (ইবনে মাজাহ, আত তারগীব)
মাগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত বিশ্বনবির নামাজ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও মাগরিবের পর ইশা পর্যন্ত নফল নামাজে অতিবাহিত করেছেন। হাদিসে এসেছে-
– হজরত হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তার সঙ্গে মাগরিবের নামাজ আদায় করলাম। তিনি মাগরিবের পরে ইশার নামাজ পর্যন্ত নফল নামাজে রত থাকলেন।’ (ইবনু আবী শাইবা, মুসান্নাফ, নাসাঈ)
– হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, সাহাবায়ে কেরাম মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে সজাগ থেকে অপেক্ষা করতেন এবং নফল নামাজ আদায় করতেন।’
– হযরত হাসান বসরি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, ইশার মধ্যবর্তী সময়ের নামাজও রাতের নামাজ বা তাহাজ্জুদের নামাজ বলে গণ্য হবে। (বায়হাকি)
মনে রাখতে হবে
নামাজ হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে উত্তম পন্থা। সাওয়াব লাভ ও গোনাহ থেকে মুক্তি উপায়। দুনিয়ার রিজিক ও রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম। এ নামাজের মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ সম্ভব।
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ফরজ নামাজ যথাযথভাবে সঠিক সময়ে আদায় করা। ফরজের পর বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা। হাদিসে নির্দেশিত নামাজ পড়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও রহমত লাভ করা।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নির্ধারিত ফরজ নামাজগুলো আদায়ের পাশাপাশি হাদিসে ঘোষিত নফল নামাজ পড়ার মাধ্যমে দুনিয়া ও পরকালের ফজিলত ও মর্যাদা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।