লিগ্যাল নোটিশ বিষয়ে যা বললেন হেফাজত নেতা রফিকুল ইসলাম মাদানী
 
 মদিনা ইউনিভাির্সিটিতে না পড়ে নামের শেষে মাদানী ব্যবহার করতেন শারীরিক আকৃতিতে ছোটো বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা। এ বিষয়টি হুবহু মিলে যায় এক হেফাজত নেতার সাথে। তার নামও মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। সম্প্রতি তিনি বক্তা রফিককে তার নামের লকব পরিবর্তনে এক লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন। গতকাল এ বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।
আজ বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় এক ভিডিও বার্তায় এ বিষয়টি পরিস্কার করেছেন হেফাজত নেতা মাওলানা রফিকুলি ইসলাম মাদানী। তিনি বলেন, যে কেউ নামের শেষে ‘মাদানী’ শব্দ ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু নামের পূর্ণ মিল এটা সাধারণত হয়না। আমার নামের সাথে শিশু বক্তার নামের পূর্ণ মিল হওয়ায় আমি বিব্রতবোধ করি।
তিনি বলেন, আমার নামের সাথে দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর যাবত মাদানী শব্দ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আপনারা জানেন ইতিমধ্যে আমার অনেকগুলো বই মার্কেটে প্রকাশিত হয়েছে। আজ থেকে ২০ বছর যাবত এই বইগুলো মার্কেটে চলছে। সমস্ত বইগুলোতে আমার নাম মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী হিসেবেই লিপিবদ্ধ আছে। আমি অনেক বছর যাবৎ মদিনায় অবস্থান করছি। মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছি। সে সুবাদে আমার নামের শেষে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী শব্দটি যুক্ত হয়েছে। গত বিশ বছর যাবত এভাবেই চলছে। সারা বাংলাদেশে অনেকেই আমাকে এ নামে চেনে। আলহামদুলিল্লাহ আমার পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। বিভিন্ন জায়গায় রফিকুল ইসলাম মাদানী নামেই আমাকে চেনে।
কিন্তু ইদানিং আমি লক্ষ করেছি, একজন মাওলানা সাহেব; যার নাম কিছুদিন শিশু বক্তা! কিছুদিন নেত্রকোনা! শেষে দেখা গেল উনার নামের শেষে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী সংযুক্ত করেছেন। আসলে ‘মাদানী’ শব্দটা যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন। এটা নিয়ে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এই যে নামের পূর্ণমিল; ‘মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী’! এতে আমি বিব্রতবোধ করি।
তাছাড়া আমার কাছে অনেক খবর আসছে যে, আমার প্রকাশিত বইসমূহ অনেকেই ওই শিশু বক্তার নামে প্রচার করছে। আর আমি থাকি সৌদি আরবের মদিনা মুনাওয়ারায়। এখানে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আমার নামের সাথে সংযুক্তি রেখে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী লিখে প্রচার করাতে অনেকেই ধোকার মাঝে পড়ে যায়। অনেকে আমাকে প্রশ্ন করে যে, আপনি দেশে এসেছেন; অথচ আপনার সাথে আমি দেখা করতে পারছিনা। কোথায় দেখা করবো? আসলে আমি তো তখনও মদীনা মুনাওয়ারায়।
আপনারা অনেকেই জানেন আমি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এবং শুরা সদস্য। আমি গত ০৪ তারিখে যে মিটিং হয়েছে হেফাজতের। ওই মিটিংয়ে নাকি ওই মাওলানা সাহেব আমার নাম ব্যবহার করে ওই মিটিংয়ে উপস্থিত হয়েছেন। এবং বিভিন্ন জায়গায় আমার নামের সাথে সামঞ্জস্য থাকার কারণে আমি বিব্রতবোধ করি। আমি বারবার ওনাকে মৌখিকভাবে আমি এ ব্যাপারটি লোক মারফত অবগত করি এবং মাদানী বাদ দিয়ে অন্য কিছুর সঙ্গে যুক্ত করার জন্য উনাকে আবেদন করি। কিন্তু তিনি তা কর্ণপাত না করে তার নাম প্রচার করে আমার নাম দিয়ে প্রচার করতে থাকে। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে একটি ধোকার সৃষ্টি হয়। এজন্য আমি আমার লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে তাকে ১৫ দিন টাইম বা সময় দিয়েছি এর মধ্যে তার নাম যদি পরিবর্তন না করে তাহলে আমি আইনের ব্যবস্থা নিব।
আমি মনে করি তিনি এর থেকে বিরত থাকুন এবং মানুষের কাছে ক্ষমা চান যে, আমি আর এই নাম ব্যবহার করবো না। অর্থাৎ তিনি আর নাম ব্যবহার না করুক এবং এতদিন যে ব্যবহার করেছেন এ জন্য জনগণকে একটি বিবৃতি দিয়ে বলুক যে, এটা আমার অন্যায় হয়েছে। আল্লাহপাক সবাইকে হেফাজত করুন।
এদিকে শারীরিক আকৃতিত ছোটো বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনা এখন আর নামের শেষে মাদানী শব্দ ব্যবহার করেন না। বরং ঘোষণা দিয়ে তিনি এ নাম ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছেন। তিনি এখন নামের শেষে নিজ জেলার দিকের সম্পৃক্ত করে নেত্রকোনা লেখেন।
নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, আমি জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসায় পড়েছি। এজন্য আমার নামের শেষে মাদানী শব্দ ব্যবহার করি।