হেফাজতের নেতা আল্লামা নুর হোসেন কাসেমীর মগ ২৬ হাজার টাকা

‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে অতিপ্রিয় এক কবিতা। এর মাধ্যমে কবি কাজী কাদের নেওয়াজ আজও আমাদের মাঝে অমর হয়ে আছেন।

কবিতায় শিক্ষকের প্রতি একজন ছাত্রের ভক্তি ও শ্রদ্ধার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যে শ্রদ্ধাবোধ আজকাল আমাদের সমাজ থেকে প্রায় বিলুপ্ত। তবে এখনো দেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধের বাস্তব চর্চা লক্ষ্য করা যায়, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি মাদরাসায় সম্মানবোধের এমনই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা গেছে। হেফাজতে ইসলামের সাবেক মহাসচিব ও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম আল্লামা নুর হুসাইন কাসেমী (রহ.)-এর শেষ জীবনে ব্যবহৃত পানি পানের একটি সাধারণ কাচের মগ ২৬ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছে কামরুজ্জামান নামের দাওরা হাদিসে অধ্যয়নরত তার এক ছাত্র।
সাধারণ মগটি এত টাকা দিয়ে কেনার কারণ জানতে চাইলে কামরুজ্জামান বলেন,
‘আল্লামা নুর হুসাইন কাসেমী সাহেবের ভালোবাসায় বারিধারায় এসেছিলাম। ইচ্ছে ছিলো হুজুরের হাত থেকেই দস্তারে ফজিলত (গ্রাজুয়েশন সম্মাননা) গ্রহণ করবো। কিন্তু সেই সৌভাগ্য আর হলো না। এর আগেই হুজুর আমাদের এতিম করে চলে গেলেন। হুজুরের প্রতি অব্যক্ত আবেগ-ভালোবাসা আর স্মৃতিকে ধারণ করতেই আমি এটি কিনেছি। আল্লামা কাসেমীর স্মৃতিধন্য এই মগ দেখে তাঁকে স্মরণের চেষ্টা করব।
অনুভূতি ব্যক্ত করার সময় প্রিয় শিক্ষকের প্রতি কামরুজ্জামানের অকৃত্রিম ভালোবাসা ফুটে উঠছিলো তার চেহারায়। আনন্দাশ্রু ছিল তার চোখে।
শিক্ষাবর্ষের শেষদিকে ক্লাসের সম্মিলিত মালিকানার নানা জিনিসপত্র নিলামে বিক্রির বিশেষ সংস্কৃতি চালু আছে কওমি মাদরাসা সমূহে। সেই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাতে বারিধারা মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের ক্লাসে চলতি শিক্ষাবর্ষের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে নিলাম চলে প্রায় ২টা পর্যন্ত।
নিলামে উল্লেখিত মগ ছাড়াও আল্লামা কাসেমী ও অন্যান্য শিক্ষকদের স্মৃতিধন্য আরো একাধিক বস্তু বিক্রি হয়। অন্য একটি মগ আরেকজন ছাত্র ৬ হাজারে কিনেছে।
পাশাপাশি আল্লামা কাসেমীর ব্যবহৃত কোলবালিশ, কাপ আর (জুস তৈরীর) ব্ল্যান্ডারও উচ্চ মূল্য ক্রয় করেন ছাত্ররা। উস্তাদের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ছাত্রদের এই ভালোবাসা সত্যিই বিস্ময়কর!