আমলের মাধ্যমে পৃথিবীতে মুসলমানদের প্রভাব সৃষ্টি হবে: আল্লামা মাহমুদুলু হাসান

ময়মনসিংহে জামিয়া মাহমুদিয়া আরাবিয়া ইসলামিয়া চরখরিচা মাদরাসার উদ্যোগে খতমে কুরআন ও খতমে বুখারি উপলক্ষে বার্ষিক ওয়াজ ও মাহফিল চলছে। চরখরিচার ঐতিহাসিক মদিনা মসজিদে জুমার আগে বয়ান করেন আল্লামা মাহমুদুল হাসান। বয়ানে তিনি বলেন, আমলের মাধ্যমে পৃথিবীতে মুসলমানদের প্রভাব সৃষ্টি হবে।
আজ শুক্রবার সকাল ৯ টায় জামিয়া মাহমুদিয়া আরাবিয়া ইসলামিয়ার মাঠে এ মাহফিল শুরু হয়। এতে উপস্থিত হয়েছেন দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম।
মাহফিলে খতমে কুরআন, খতমে বুখারী ও আখেরি মােনাজাত পরিচালনা করবেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদের খতিব, যাত্রাবাড়ী মাদরাসার মুহতামিম, বেফাকের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও আল-হাইয়াতুল উলিয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান।
দীনি এ মাহফিলে সুন্নতের আমল, ঈমান আকিদা বিষয়ে আলোচনা পেশ করবেন বক্তাগণ। মাহফিল উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহসহ ঢাকা ও আশপাশের উলামায়ে কেরাম উপস্থিত হয়েছেন।
জুমার আগের বয়ানে মহিউস সুন্নাহ হজরত মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেব বলেন, এক হাদিসে আসছে, তোমার বাসার সামনে যদি হাউজ বা সমুদ্র থাকে। তাহলে পাঁচবার তাতে গোসল করলে তোমার শরীর কেমন পাক হবে? তেমনি পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়লে তোমার শরীর পবিত্র হয়ে যাবে।
মানুষের শরীরে যেমন ময়লা পড়ে। আত্মার মাঝেও তেমনি ময়লা পড়ে। আর এটা যুক্তি ছাড়া সারা পৃথিবীর মানুষ জানে। আত্মার ময়লার নাম হলো গুনাহ। এগুলো আমরা কেউ কাজের দ্বারা করি। হাতের দ্বারা করি। মুখের দ্বারা করি। পায়ের দ্বারা করি। পায়ের দ্বারা গুনাহের দিকে হাঁটি। নেকির কাজের দিকে হাঁটলে মসজিদের দিকে গেলে কমপক্ষে দশটি করে নেকি পাওয়া যায়।
গোনাহের দিকে গেলে এর উল্টোটা হওয়ার কথা। তবে আল্লাহ দয়া করে গুনাহের দিকে গেলে মাত্র ১ টি করে গুনাহ লেখা হয়। আর নেকির দিকে গেলে ১০ টি করে লেখা হয়। কুরআন দেখলে একেকটা নজরে দশটা নেকি পায়। একেকটা শব্দে দশটা নেকি পায়।
মায়ের চেহারার দিকে যদি মুহাব্বাতের নজরে তাকায়। কিংবা বাবার চেহারার দিকে যদি মুহাব্বাতের নজরে তাকায়। তাহলে আল্লাহপাক একটা কবুল হজ ও উমরার সাওয়াব দান করেন। কেউ জানে না এজন্য করে না। আবার জানে তবে অবহেলায় করে না। কিন্তু কত বড় সাওয়াব।
তিনি বলেন, ইসলামী আমলের মাধ্যমে আমাদের প্রভাব সৃষ্টি হবে পৃথিবীতে। কাপড়ের দ্বারা নয়। অর্থ সম্পদের দ্বারা নয়। ঈমানী শক্তির দ্বারা সৃষ্টি হবে। আমাদের ঈমান যত মজবুত হবে। আমাদের আমল যত সুন্নাত মোতাবেক হবে। ততবেশি ইসলামের গালাবা হবে। ইসলামের প্রভাব সৃষ্টি হবে।
হে পৃথিবীর মানুষ শুনে রাখো। এছাড়া আর কোনো কিছুতেই ইসলামের প্রবলতা, প্রভাব সৃষ্টি হবে না। ইসলাম শুধু নিচের দিকেই যাবে। মুসলমান শুধু অপদস্থ হবে। যারা হুব্বে মালের পেছনে পরবে। অর্থের পেছনে পরবে। হুব্বে জা বা লিডারের পেছনে পরবে। লিডারগিরির পেছনে পরবে। আমিত্ব ভাব তার মাঝে আসবে। অন্যকে গালি দিবে। নিজেরা নিজেরা অনৈক্যের সমুদ্রে ভাসবে। একজন আরেকজনের পেছনে লাগবে। ঝগড়া লাগাবে। হিংসা করবে। নিজেদের মতানৈক্য অনৈক্য সৃষ্টি করে-এমন কথাবার্তা বলবে। ততদিন ইসলাম ও মুসলমান শুধু নিচের দিকে যাবে।
আর কাফেরদের দ্বারা ধৃত হবে। লাঞ্চিত বঞ্চিত হতে থাকবে। তারা তোমাদের উপরে ক্ষমতার প্রয়োগ করবে। সাধারণ জনতার উপরতো বটেই। আলেমরা পরাজিত হবে। মাদরাসার ভিতরে ফেসবুক ঢুকবে। মসজিদের ভেতরে ফেসবুক ঢুকবে। ফটোর সায়লাব শুরু হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আমরা এখন শুধু লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত। অমুক ভাই আওয়ামী লীগ করে, অমুক ভাই বিএনপি করেন, অমুক ভাই জামায়াত করে। কেনো ভাইয়েরা এই কথা তোমরা বলতে পারো না যে অমুক ভাই ইসলামি চিন্তাধারার রাজনীতি করে।
সময় হয়েছে এখন দুইটি রাজনৈতিক দল গঠন করার। তবে তা মাদরাসা কেন্দ্রীক না হয়ে মসজিদ, আওয়াম কেন্দ্রীক হতে হবে। মাদরাসাগুলো হবে আমাদের কর্মী গড়ার কারখানা। শুধু চার দেয়ালে বসে থাকলেই হবে না। মাদরাসার ছাত্রদের সিয়াসাতের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।
আজ বাংলাদেশে ইসলামের ৯০% কাজ হচ্ছে রাজনীতির মাধ্যমে। একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন যে, সরকারের দরবারি লোকদের থেকে যারা রাজনীতিতে আছে তাদের নিয়ে মাথাব্যাথা বেশি। কারণ কি জানেন? এর কারণ হচ্ছে রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামের কাছে, সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারবেন।
আপনার দরবারের লোক কয়জন? আপনার খানকায় কয়জন লোক বসে? কিন্তু একটা রাজনৈতিক সমাবেশে হাজার হাজার মানুষের আগমন ঘটে। সুতরাং ইসলামকে আবারো জিন্দা করতে হলে রাজনীতির কোনো বিকল্প নাই। তবে সেই রাজনীতি অবশ্যই ইসলামি রাজনীতি হতে হবে। গনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করলে হবে না।
ইসলামের যখন সোনালী অতীত ছিলো তখন কিন্তু গনতন্ত্রের নাম গন্ধও ছিলো না। গনতন্ত্রের বিষ আমাদের ইসলামি চিন্তাধারার রাজনীতিকে নীল করে দিয়েছে। অতএব, আর বসে থাকলে চলবেনা। এবার মাঠে নামুন আপনারা। সাথে ছাত্র সমাজকেও মাঠে নামান। ইসলামি রাজনীতির বীজ বপন করুন।
জানা গেছে, খতমে কুরআন ও খতমে বুখারি উপলক্ষে আয়োজিত এ মাহফিল চলবে আজ মধ্যরাত অবধি।