তুরস্ক চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে চায়; বাংলাদেশ দিতে চায় মোংলা

ইসলামী জার্নাল : চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে চায় তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এলপিজি উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আইগাজ। এছাড়াও কর্ণফুলী নদীর তীরে যৌথ উদ্যোগে এলপিজি প্লান্টে বিনিয়োগ করতে চায় দেশটি। বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বন্দরের বদলে তুরস্ককে ব্যবহার করতে দিতে চায় মোংলা বন্দর।
ঢাকা বা পাশ্ববর্তী এলাকায় আড়াই লাখ বর্গমিটার আয়তনের একটি আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনেরও প্রস্তাব দিয়েছে তুরস্ক।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ তিনগুণ বাড়াতে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি পণ্য  আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এজন্য আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ঢাকা সফরে এসব বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। দেশটির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পুরনো চুক্তিগুলোও এই সফরে ঠিকঠাক করে নেয়া হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও ঢাকায় ডি-৮ সম্মেলন উপলক্ষ্যে আগামী মার্চে বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের।
তুরস্কের রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরের সময় দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও সংশ্লিষ্ট নানাবিধ বিষয় নিয়ে গত ৬ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম) রাষ্ট্রদূত শাব্বির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সভাসূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসটিআইর সক্ষমতা বাড়াতে পৃথক চুক্তি ও সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি।
এরদোগানের সফরে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ে এরকম বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করতে আগ্রহী তুরস্ক।
সভায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, তুরস্কের আইগাজকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারে অনুমতি দেয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাই চট্টগ্রামের বদলে মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে তুরস্ককে প্রস্তাব দেবে ঢাকা।
সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের তুরস্ক সফরকালে এরদোগান বাংলাদেশ-তুরস্কের বাণিজ্য তিন বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ওপর জোর দেন। তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে কি কি বাধা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য তালিকা চেয়েছিলেন এরদোগান।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তুরস্কের কাছে যে তালিকা পাঠিয়েছে তাতে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, ওষুধসহ বাংলাদেশের প্রধান প্রধান রপ্তানি পণ্যের নাম আছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক সিকদার বদিরুজ্জামান সভায় বলেন, তুরস্ক সরকার ঢাকা বা ঢাকার অদূরে ২,৫০,০০০ বর্গমিটার আয়তনের একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করতে চায়। সেজন্য দেশটি বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়েছে। জমি বরাদ্দ দিতে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শওকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, উত্তরা, পূর্বাচল বা ঝিলমিল প্রকল্প থেকে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। জমি খোঁজার পাশাপাশি তুরস্ককে ঢাকার কমলাপুরে ৫ একর আয়তনের রেলওয়ে হাসপাতালটি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালনার প্রস্তাব দেবে ঢাকা।
তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে ‘এগ্রিমেন্ট অন ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন’ স্বাক্ষর করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট থাকবে তুরস্কের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা টার্কিশ কোঅপারেশন এন্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা)। সংস্থাটি ঢাকায় অফিস খুলতে চায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলে চুক্তিটি সই হতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ‘এগ্রিমেন্ট অন কোঅপারেশন ইন দ্য ফিল্ড অব এডুকেশন’ স্বাক্ষর করতে চায় তুরস্ক। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেবে তুরস্ক সরকার। বৃত্তির জন্য ছাত্র মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ‘ধর্মীয় মৌলবাদের’ বিষয়টি নিবিড় সতর্কতায় বিবেচনার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা।
এরদোগানের সফরে দেশটিতে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত দিতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষরেরও প্রস্তাব দিয়েছে তুরস্ক। তবে এতে সম্মতি নেই বাংলাদেশের।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ অনুবিভাগের মহাপরিচালক আন্দালিব ইলিয়াস সভায় জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোতে যেসব বাংলাদেশি ইতোমধ্যে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও ইইউ ২০১৭ সালে একটি এসওপি স্বাক্ষর করেছে।
তিনি জানান, তুরস্ক সরকারও একই ধরনের একটি চুক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষর করতে আগ্রহী। তবে এতে বাংলাদেশের অনাগ্রহ রয়েছে।
সূত্র: টিবিএস ও সাউথ এশিয়ান মনিটর