সরকারের অদূরদর্শিদতার কারণেই ভ্যাকসিন নিয়ে অনিশ্চয়তা: চরমোনাই পীর

ইসলামী জার্নাল : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ভ্যাকসিন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি সরকারের অদূরদর্শিতার ও ব্যর্থতা প্রমাণ করে। ভারতপ্রীতি ও দিল্লিমুখী পররাষ্ট্রনীতির কারণেই করোনাভাইরাস এর ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চীনের সঙ্গে চুক্তির পর সরকার সেটাকে ফাইলবন্দি রেখে দিল্লিকে খুশি করতে ভারতের সঙ্গে ভ্যাকসিন চুক্তি করেছে। এধরণের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। এখন যদি ভ্যাকসিন দিতে চার থেকে পাঁচ মাস দেরি হয়, আর এর জন্য মানুষ সংক্রমিত হয়, তার দায়িত্ব কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিবে? তাই সরকারের উচিত নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার পরিবর্তে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করুন।
আজ এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বিশ্বের অন্তত ৩০টি দেশে ইতিমধ্যে টিকা দেওয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশেও জানুয়ারিতে টিকা পাবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোর গলায় বলেছিলেন। অথচ আমাদের যথা সময়ে টিকা পাওয়ার আশা এখন অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। এখন যে পরিস্থিতি তাতে এপ্রিলের আগে টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি বলেন, ভারত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে কয়েক মাসের জন্য তারা ভ্যাকসিন রফতানির অনুমতি দেবে না। কারণ তাদের দেশের জনগণের জন্য টিকার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত না করা পর্যন্ত বাংলাদেশকে টিকা দেবে না। ভারত তো ঠিকই তাদের দেশের মানুষের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেনি। আর আমাদের সরকার দেশের মানুষের দিকে না তাকিয়ে অন্য দেশকে খুশি করতে ব্যস্ত।
পীর সাহেব বলেন, জনগণের প্রতি তাদের ন্যূনতম দায়বদ্ধতা আছে বলে মনে হয় না। সরকারের অদূরদর্শিদতা ও লুটপাটনীতির কারণেই ভ্যাকসিন নিয়ে আজ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে বিকল্প পথ খুজতে হবে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন কিনতে গিয়ে সরাসরি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি না করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে চুক্তি করায় আর্থিকভাবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মাধ্যমে ভ্যাকসিনের প্রতিটি ডোজের দাম প্রায় দ্বিগুণ পড়বে। সরাসরি চুক্তি হলে শত শত কোটি টাকার সাশ্রয় হতো। যদি কয়েক কোটি ভ্যাকসিন আমদানিও হয় তা সাধারণ মানুষ আদৌ সে ভ্যাকসিন পাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন বিনামূল্যে পাওয়া জনগণের অধিকার। এই অধিকার থেকে জনগণ বঞ্চিত না হয়, জনগণ যাতে এই ভ্যাকসিন সঠিকভাবে পায় সেটা অবশ্যই সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।