আল্লামা আশরাফ আলী (রহ.): আমার দেখা এক মুহিউস-সুন্নাহ

‘তোমরা দুনিয়ার সকল ভালো কাজ ডান দিক থেকে করবে৷ মসজিদে প্রবেশ করতে, ইস্তিঞ্জাখানা থেকে বের হতে, খাবার বা পানীয় খেতে, মশারী টানাতে, জুতা পায়ে দিতে, জামা পরিধান করতে ইত্যাদি ইত্যাদি সকল ভালো ও উন্নত কাজে তোমরা ডান দিক কে প্রাধান্য দিবে৷’ কথাগুলো যখন ছাত্রদের সামনে বলছিলেন, তখনই আমি হযরতকে প্রথম দেখি৷ কী সুন্দর নূরানী চেহারা! অপরূপ দেহ গঠন! ধবধবে সাদা পোশাক পরিহিত এ যেন এক নূরানী ফেরেশতা!

প্রথম যেদিন সালাম দিয়ে হযরতের রুমে প্রবেশ করি, তখন হযরত জায়নামাযে বসে তাসবীহ পড়ছিলেন৷ কথোপকথনের একপর্যায়ে হযরত আমায় গ্লাসে করে খাবার পানি দিতে বললেন৷ আমি তো হুট করে গ্লাসভর্তি পানি নিয়ে হযরতের সামনে এসে দাঁড়ালাম৷ কিন্তু পানি দিয়ে গ্লাসকে পরিপূর্ণ করে ফেলা ছিল হযরতের স্বভাব বিরোধী কাজ, তাই তিনি তা অপছন্দ করলেন এবং আমাকে নিজ হাতে শেখালেন যে একটি গ্লাসে কতটুকু পানি নেওয়া শোভনীয় ও সমীচীন৷ হযরতের কাছেই আমি শিখেছি ফল কাটার তরিকা, গ্লাস রাখার সঠিক পদ্ধতি, জুতা গুছিয়ে রাখার নিয়ম, জায়নামায ভাঁজ করা সহ যাবতীয় কাজের অনুশীলন৷

হযরত আপেল ও কমলা মাঝ বরাবর না কেটে দুই পাশে কিছুটা পাশ কাটিয়ে কাটতেন, যাতে ফলের বিচিগুলো আলাদা থেকে যায়৷ ফলের বাকি অংশগুলো খেয়ে তিনি এই অংশটুকু বিচি বেছে বেছে খেতেন৷ পানির গ্লাস উপোড় করে রেখে দিতেন৷ জুতা জোড়ার উভয়টি একটি অপরটির নিচের অংশের সাথে মুখোমুখি করে মিশিয়ে রাখতেন এবং মসজিদে প্রবেশ করলে জুতা জোড়ার সম্মুখভাগ কেবলামুখী করে রাখতেন৷ জায়নামায ভাঁজ করতেন খুব সুনিপুণভাবে, সাজদাহ দেওয়ার অগ্রভাগ কখনোই পা রাখা অংশের সাথে মিলিয়ে ভাঁজ করতেন না, তিনি ভাঁজ করতেন সম্মুখভাগের দুই অংশকে মিলিয়ে৷ এতে সাজদার স্থল পা রাখার অংশের সাথে মিশে না৷
একবার আমি খাবারের ঝুটা আর ময়লা পানি একই পাত্রে রেখে ছিলাম৷ হযরত এটি দেখে খুব রেগে গেলেন এবং আমায় বললেন, ‘তুমি ঝুটাগুলো ময়লা পানির সাথে মেশালে কেন? এগুলো তো অন্য প্রাণীদের সুস্বাদু খাবার৷’ তারপর আমাকে শেখালেন খাবারের ঝুটা কিভাবে ও কোথায় রেখে দিতে হয়৷ তিনি মদীনার খেজুর খেয়ে তার বিচিগুলো কখনোই ফেলে দিতেন না, মদীনার ভালোবাসায় বিচিগুলো একটি থলে সযত্নে রেখে দিতেন৷
হযরত গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখে রফিকে আ‘লার রহমতের কোলে আশ্রয় নেন৷ কিন্তু তাঁর শিখিয়ে যাওয়া আদর্শে ভর করে তিনি আজো যেন আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন৷ আমরা তাঁর জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ মাক্বামের তামান্না রাখি, মহান আল্লাহ কবুল করুক৷