আল্লামা শফী ‘হত্যাকাণ্ডের’ জরীতদের বিচার করতে হবে : দাবি সন্তানদের

হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসাবে আবারও উল্লেখ করেছেন তাঁর সন্তান মাওলানা ইউসুফ বিন আহমদ শফী আল মাদানী।
তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা তদন্ত করে দোষীদের যেন দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হয়।

মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, আল্লামা শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিলো না। তার মৃত্যুর সাথে ইসলাম নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করে চলেছে তারা জড়িত। ইসলাম ও দ্বীনি শিক্ষার স্বার্থে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, জঘন্যতম বিষয় হলো- হেফাজতের তথাকথিত আমির জুনায়েদ বাবুনগরী গত ২৩ ডিসেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকদের সামনে বসিয়ে রেখে বলেছেন, “হুজুরের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।” কী চরম মিথ্যাচার! এর নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে দেশের শীর্ষ এই প্রতিষ্ঠানের মুহাদ্দিসদের সামনে যেভাবে তিনি মিথ্যাচার করেছেন, আল্লাহ তায়ালার দরবারে এর জন্য কী জবাব দেবেন? অথচ জেনেশুনেও তারা এই মিথ্যাচারগুলো শুনে গেছেন, একটু প্রতিবাদ করার সাহসও কারও হয়নি! এটা কি আলেমদের স্বভাববিরোধী নয়?’
চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় অবস্থানকালে পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা করে আল্লামা শফীকে অসুস্থ করা হয়। এরপর ঢাকায় আনা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গত ১৮ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকেই এই মৃত্যুকে অস্বাভাবিক বলে দাবি করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছে তাঁর পরিবার ও অনুসারীরা। এবার পরিবার ও স্বজনদের কাছে বিশেষ নিরাপত্তা দাবি করেন আল্লামা শফীর ছোট ছেলে আনাস মাদানি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে মুফতি ফয়জুল্লাহ, মঈন উদ্দীন রূহী, মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা রূহুল আমিন উজানবী, মামলার বাদী আল্লামা শফীর শ্যালক মঈন উদ্দীন, মুফতি রেজাউল করিম, মুফতি আব্দুস সাত্তার, মুফতি রহমতুল্লাহ বোখারি, মুফতি আব্দুল কাইয়ুম ও মাওলানা আব্দুল বাতেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।