মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়নি, কর্মী পাঠাতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেছেন, করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের সহায়তার পাশাপাশি মহামারী পরবর্তী পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্মী নিয়োগকারী দেশগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অবশ্যই কর্মী প্রয়োজন হবে এবং শ্রমবাজার আবার স্বাভাবিক হবে।

এই প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে আমরা আমাদের কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সার্টিফিকেশনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।”

মহামারীর কারণে গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৭৫৮ জন প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য দেন ইমরান আহমেদ।

তিনি বলেন, “আশঙ্কা করা হয়েছিল অর্থনৈতিক মন্দা এবং করোনার প্রভাবে প্রধান কর্মী নিয়োগকারী দেশগুলোর শ্রমবাজার বিপর্যস্ত হওয়ায় অনেক বিদেশি কর্মী বেকার হয়ে পড়বে।

“কিন্তু আশার কথা হলে, এখন পর্যন্ত ফেরত আসা কর্মীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেনি। এক্ষেত্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদেশে আমাদের মিশন ও দূতাবাস একযোগে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।”

সৌদি আরব থেকে দেশে এসে আটকে পড়া প্রবাসীদের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ইতোমধ্যে ফিরে গেছেন বলে জানান মন্ত্রী। এছাড়া ‘কয়েক হাজার’ প্রবাসী সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ফিরে গেছেন।

বিদেশে কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়া এবং দেশে ফিরে আসা কর্মীদের জন্য সরকারের সহায়তার উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হয় এ সংবাদ সম্মেলনে।

বিদেশফেরত কর্মী এবং বিদেশে মারা যাওয়া কর্মীদের কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার কাথাও জানানো হয়।

ইমরান আহমেদ বলেন, দক্ষ কর্মী তৈরির লক্ষ্যে দেশে ৬৪টি টিটিসি ও ছয়টি আইএমটি চালু রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ৪০টি টিটিসি নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে আছে।

মুজিববর্ষের বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে আরাও ১০০টি টিটিসি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে তা বেড়ে ১৮.২ বিলিয়ন ডলার হয়।

মহামারীর মধ্যে চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরের প্রথম পাঁচ মাসেও ১০.৯ বিলিয়ন ডলারের রেমিটেন্স এসেছে যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪১ শতাংশ বেশি।

সঙ্কটের মধ্যেও এই বিপুল অংকের রেমিটেন্স পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য ‘বন্ধ হয়নি’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সেখানে কর্মী পাঠাতে সরকারের প্রচেষ্টা ‘অব্যাহত রয়েছে’।

“কম খরচে আমি যত শ্রমিক পাঠাতে পারি, এটার জন্য সমঝোতায় বসতে আমি রাজি আছি। কিন্তু সমঝোতা করতে গিয়ে যদি দেখি দেশের ক্ষতি হচ্ছে, আমার শ্রমিকের ক্ষতি হচ্ছে, তাহলে সেদিকে আমি এগোবো না।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, মহামারীর মধ্যে লেবাননে আটকে থাকা প্রবাসীদের যারা দেশে ফিরতে চান, তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে সরকার ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।

চলতি ডিসেম্বরেই জর্ডানে একটি পোশাক কারখানায় বাংলাদেশ থেকে ২ হাজার কর্মী যেতে পারবেন এবং জানুয়ারিতে সে দেশে আরো ১০ হাজার কর্মী যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।

প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’ পালিত হয়। এ উপলক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিবছরের মতই বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের অভিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছে- মুজিববর্ষের আহ্বান, দক্ষ হয়ে বিদেশ যান।
জাতীয়ভাবে এবারের অভিবাসী দিবসের মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৬ জানুয়ারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।