বাবুনগরী! তোমার জানাযাও এই ফটিকছড়িতে হবে না: আ.লীগ নেতা শাহজাহান

 

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর জানাজা
ফটিকছড়িতে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মোঃ শাহজাহান। শনিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে উপজেলা সদরের বিবিরহাটে এক মহাসমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে ফটিকছড়ি মুজিব শতবর্ষ উদযাপন পরিষদের ব্যানারে এদিন বিক্ষোভ ও মহাসমাবেশের আয়োজন করে ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগ।
মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগেরর সহ-সভাপতি শাহ আলম সিকদার। এতে আরও বক্তব্য রাখেন- সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম বাবু, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হোসাইন মুহাম্মদ আবু তৈয়বসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দরা।
ফটিকছড়ির স্মরণকালের বৃহত্তম এ সমাবেশে মোঃ শাহজাহান বলেন, আজকে আমরা এই ফটিকছড়িতে বসে বলতে চাই, বাবুনগরী সাহেব আপনি ফটিকছড়িতে আছেন এবং আপনার উত্তরসূরিরা ফটিকছড়িতে আছেন। আমরাও কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে এই ফটিকছড়িতেই আছি।
‘বঙ্গবধুর ভাস্কর্য ভাঙার পেছনে নায়ক ফটিকছড়ির বাবুনগরী’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আরেকবার যদি বঙ্গবন্ধুর এই ভাস্কর্যে হাত দেওয়া হয়, আবার বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যদি কথা বলা হয়, তাহলে তুমি বাবুনগরীর খবর পর্যন্ত এই ফটিকছড়িতে হবে না। তোমার জানাযাও এই ফটিকছড়িতে হবে না।
এসময়য় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে মোঃ শাহজাহান বলেন, বর্তমানে কিছু কিছু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভেতরে জামায়াত-শিবির এবং রাজাকারেরা ঢুকে পড়েছে।
তিনি বলেন, আমরা এত সহজে ফটিকছড়ি স্বাধীন করিনি। ১৯৭৫ এর পরে এই ফটিকছড়ি স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে চলে গিয়েছিল। আমাদের ৪৭ জন নেতাকর্মী, এবং অনেকের আত্তহুতি বিনিময়ে অনেক ছাত্রনেতা, অনেক মামলা হামলার বিনিময়ে আমরা আজকে ফটিকছড়িকে জামায়াত মুক্ত করেছি এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে আ.লীগ নেতা শাহজাহান বলেন, আপনারা আওয়ামী লীগ করেন না, তবে আওয়ামী লীগের সুদিনের পাখি। আমরা আওয়ামী লীগকে পজিশনে অর্থাৎ এই সময়ে আনার জন্য অনেক রক্ত দিয়েছি। অনেক মামলার আসামি হয়েছি, অনেক ভাইকে হারিয়েছি। এখন আপনারা আওয়ামী লীগকে চালাবেন, আর আমরা ঘরে বসে থাকব, চুপ করে থাকব এমনটা হবে না।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, রাজাকারদের উত্তরসূরি, অশিক্ষিত, কুলাঙ্গার যারা জামায়াতের আতাতকারি, তাদেরকে যদি আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন তাহলে আপনাদের অবস্থা ভালো হবে না। আপনাদের অবস্থা সেই ৭৫ এর আগে যেভাবে আমরা ফটিকছড়ি স্বাধীন করেছিলাম, ৭৫ এর পরে রাজাকারদের বিতারিত করেছিলাম আপনাদেরকেও এই ফটিকছড়ি থেকে সেভাবে বিতাড়িত করা হবে।
শাহজাহান আরও বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে চিনি, তার কাছে যেতে পারি, মন্ত্রী-মিনিস্টারের কাছেও যেতে পারি। আপনারা ভুলে যাইয়েন না আপনারা এখানে পুলিশ বা ইউএনও হয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরে ঢুকে যদি আওয়ামী লীগকে টুকরো টুকরো করতে চান সেটা হতে দেওয়া যাবে না।