হেফাজত আরেকটি শাপলা চত্বর করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: গোলাম মাওলা

আরেকটি শাপলা চত্বর ঘটাতেই ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামীপন্থী আলেমরা।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক কমিটির সভায় বক্তারা এ বিষয়ে সরকার ও জনগণকে আরও সজাগ থাকার আহবান জানান।

একইদিন দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম দাবি করে, কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার দায় চাপিয়ে তাদের ঘায়েলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, কুষ্টিয়ায় জাতির জনকের ভাস্কর্য ভাঙচুর, ষড়যন্ত্র ও সম্পৃক্ততার বিষয়ে হেফাজতকে জড়ানোর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম।

এসময় সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, একটি মহল কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার দায় হেফাজতে ইসলামের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এছাড়া, কুষ্টিয়ায় দুই মাদ্রাসা ছাত্রের গ্রেপ্তার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দল ও তাদের সমর্থকদের মধ্যকার ইসলাম বিদ্বেষী একটি মহল কুষ্টিয়ার ঘটনার দায় ওলামা একরাম ও হেফাজত নেতৃবৃন্দের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাদেরকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা করছে।’

এদিকে, সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপকমিটি। সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী কুরআন হাদিসের অপব্যাখা করছে।

হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আরেকটি শাপলা চত্বর করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলেও মন্তব্য করেন তারা।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টমণ্ডলীর সদস্য গোলাম মাওলা নকশাবন্দী বলেন, ‘এ অবস্থায় সরকারকে চিন্তা করতে হবে, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাকে সক্রিয় করতে হবে। তারা আরেকটি শাপলা চত্বরের হুমকি দিচ্ছে। মূর্তি বা ভাস্কর্য আসল বিষয় নয়, বড় বিষয় হচ্ছে তারা সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করছে তারা।’

সাম্প্রদায়িকতা রুখে দিতে সরকার ও জনগণকে আরও সজাগ থাকার আহবান জানান বক্তারা।