হুংকার দিয়ে ইসলাম প্রচার হয় না : চরমোনাই পীরকে মাওলানা ইসমাইল

বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেছেন, ভাস্কর্য ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবে- এগুলো করতে দেয়া যাবে না। হুংকার দিয়ে একটা সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
তিনি বলেন, ভাস্কর্য যদি খারাপ হয়ে থাকে তাহলে চরমোনাই পীর সাহেব হুংকার দিচ্ছেন কেন। চরমোনাই পীরসাহেব জাতীয় নির্বাচন করলেন। নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে, তাইলে আপনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে মধুর ভাষায় কথাগুলো বলতে পারতেন। আপনি বসে বসে হুংকার দেন, হুংকার দিয়ে তো ইসলাম প্রচার হয় না। আলোচনা করে সমাধান করতে হবে। জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর, মাদরাসার ছোট ছোট শিক্ষার্থীকে মাঠে এনে পুলিশের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবেন- এ ধরনের অন্যায় করতে দেয়া যাবে না।

মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, ভাস্কর্য ইস্যুতে আমরা চাই সন্ধি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান। দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি আমরা চাই না, খালি মাঠে কেউ যেন গোল না দিতে পারে।
এর আগে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটা গণতান্ত্রিক দেশ। এ দেশ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী চলে।

আলেমদের অবশ্যই দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করতে হবে এবং অন্য কোনো মহলকে সুযোগ দেয়া যাবে না। বিষয়টিকে রাজনীতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার।

বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশে ভাস্কর্য বিষয়টি নিয়ে একটি উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে সােশ্যাল মিডিয়াকে প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যাবহার করে বিষয়টি এখন আলােচনার তুঙ্গে। যদিও ভাস্কর্য বা মুর্তি ইসলামে বৈধ নয়, তারপরও বাংলাদেশে ভাস্কর্য নির্মাণ কোনো নতুন বিষয় নয়।

বাংলাদেশে ঈশা খাঁর আমলের সােনারগাঁয়ে ভাস্কর্য রয়েছে, সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ভাস্কর্য রয়েছে, জিয়াউর রহমান, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ভাস্কর্য আছে।

মাওলানা ইসমাইল বলেন, আমাদের দেশের স্বাধীনতাবিরােধী কিছু কুচক্রীমহলের আলেম আমাদের দেশের হক্কানী আলেমদের উসকানি দেয়ার চেষ্টা করছে।

কিন্তু ভাস্কর্য নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কোনােভাবেই চক্রান্ত করা চলবে না এবং যারা চক্রান্ত করবেন এবং সাধারণ মাদরাসার ছাত্র ও কওমি মাদরাসা ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করবেন, জননিরাপত্তা নষ্ট করবেন, তাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমি বলতে চাই স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা।

তাই জাতির জনকের ভাস্কর্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে জাতির জনকের নামে হাসপাতাল, শহর, এয়ারপাের্ট, মসজিদ, ট্রাস্ট নির্মাণ, এমনকি মিনার নির্মাণ হতে পারে। তাই আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব- বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য সেইসাথে জনগণকে আহ্বান জানাতে চাই, সরকারের প্রতি আস্থাশীল থাকুন এবং বর্তমান সরকার ও জনগণ একে অপরের আয়নাস্বরূপ।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা হজরত মাওলানা মুফতি শাহাদাত হােসাইন, পীরে কামেল আলহাজ হজরত মাওলানা আজিজুর রহমান বুলবুলী, কাজী মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, মো. বশির আহম্মেদ, আলহাজ মাে. শাহীন খান, মাওলানা তাহেরুল ইসলাম, কারি মাওলানা আব্দুল মান্নান, মাওলানা মাে. মনিরুজ্জামান হাফেজ ও মাওলানা আব্দুল আজিজ উপস্থিত ছিলেন।