সরকারের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে: নুর

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘ক্ষমতা হারানোর ফোবিয়াতে আছে সরকার।

তাদের প্রতি জনগণের যে সমর্থন ছিল সেটানেই। কাজেই তাদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে।’ মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই কথা বলেন তিনি

নুর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের নামধারী সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিজয়ের মাসে শ্রমিক, শিক্ষক, আইনজীবীদের ওপরে রাতের অন্ধকারে হামলা হয়,

এটা আমাদের ৪৯ বছরের স্বাধীনতার জন্য লজ্জাজনক ঘটনা। সরকার আজ কারও কথা শুনতে চায় না।

তারা আজ ক্ষমতা হারানোর ফোবিয়াতে ভুগছে। যখনই কেউ তাদের যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবি দাওয়া সরকারের কাছে জানায়, রাজপথে আসে, তখনই সরকার ভাবে এই বুঝি তাদের গদি নড়বড়ে হলো।

সেই আতঙ্ক থেকে তারা কারও কথা শোনে না। তারা দমন-পীড়ন করে মানুষের কণ্ঠকে দমন করতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে বলবো, আজ সরকার তাদের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। তারা ক্ষমতা হারানোর ফোবিয়াতে ভুগছে। সুতরাং আপনারা যদি ঐক্যবদ্ধ হন, এই স্বৈরশাসন আর টিকতে পারবে না।

সরকারকে বলবো, আপনারা যদি সম্মানজনক বিদায় চান, অতি দ্রুত সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনগুলোকে নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার জন্য একটি কার্যকর উদ্যোগ নিন। অন্যথায় আপনাদের গণআন্দোলনের মুখে বিদায় নিতে হবে। কারণ আপনার যতই টালবাহানা,

নাটক করেন আজ জনগণ কিন্তু ক্ষুদ্ধ। আজ আপনাদের সেই সমর্থন নাই। কাজেই আপনাদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে। যতই দলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেন, এদেশের জনগণ কিন্তু তাদের ভোটাধিকার আদায়ে শিগগিরই রাজপথে নামবে।’

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রোহিঙ্গার মতো একটি আন্তর্জাতিক সমস্যায় শুরু থেকেই সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশ কাটিয়েছে। তারা তাদের তথাকথিত বন্ধু রাষ্ট্র, ভারতের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। না পেরে জটিল পরিস্থিতিতে এখন পড়েছে, যেখানে জাতিসংঘসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা বলছে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের না নেওয়ার জন্য। সবার মতামত উপেক্ষা করে সরকার রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে সমাধানের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।’
এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।